

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাঠের লড়াই শেষ হলেও নেইমার ও থিয়াগো মেন্দেসের বিরোধ যেন শেষ হওয়ার নয়। এবার ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিক করমর্দনেও দেখা গেল সেই দূরত্ব।
রোববার (১৬ আগস্ট) সাও জানুয়ারিওতে ভাস্কো দা গামা ও সান্তোসের ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়েরা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন। নেইমারও হাত বাড়িয়ে ছিলেন। তবে মেন্দেস তার সঙ্গে হাত না মিলিয়েই পাশ কাটিয়ে চলে যান।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোতা আমানসিও মেন্দেসের এমন আচরণের সমালোচনা করেছেন। এ সময় তিনি রোনালদিনহো ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে ঘিরে প্রচলিত একটি ঘটনার উদাহরণ দেন। তার মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল—বড় তারকারা অনেক সময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে স্বাভাবিক ও বিনয়ী আচরণ করেন, অথচ অহংকারের প্রকাশ দেখা যায় অন্যদের মধ্যে।
নেইমার ও মেন্দেসের সম্পর্ক অবশ্য বেশ আগে থেকেই তিক্ত। ২০২০ সালে ফরাসি লিগ ওয়ানে পিএসজি ও লিঁওর ম্যাচে মেন্দেসের একটি ট্যাকেলে গুরুতর চোট পান নেইমার। ওই ঘটনায় লাল কার্ড দেখেছিলেন মেন্দেস। পরে নেইমারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু সেই ঘটনা এত সহজে ভুলে যায়নি নেইমারের পরিবার। নেইমারের বাবা নেইমার সিনিয়রও সে সময় ট্যাকেলটির সমালোচনা করেছিলেন। তার প্রশ্ন ছিল, একজন খেলোয়াড় বারবার কঠিন ফাউলের শিকার হওয়ার পরও কেন তাকেই দায়ী করা হবে।
এ বছর দুজনই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফেরার পর পুরোনো বিরোধ আবার প্রকাশ্যে আসে। সাম্প্রতিক এক ম্যাচে মেন্দেসের ফাউলকে কেন্দ্র করে নেইমার তাঁর মুখোমুখি হন। উত্তেজনার একপর্যায়ে মেন্দেসের সংস্পর্শে নেইমার পড়ে গেলে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। বিরতির সময় ড্রেসিংরুমের টানেলেও তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
ম্যাচ শেষে মেন্দেস সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেইমার। তার অভিযোগ, মেন্দেস প্রায়ই বিবাদে জড়াতে চান এবং নিজেকে অতিরিক্ত শক্তিশালী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এমনকি একপর্যায়ে তাকে ‘ইডিয়ট’ বলেও মন্তব্য করেন নেইমার।
তাই রোববারের করমর্দন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাকে অনেকেই দুই খেলোয়াড়ের দীর্ঘদিনের বিরোধেরই আরেকটি অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে ব্যক্তিগত সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।


