

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে তার শরীরে একের পর এক গুরুতর উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেসব লক্ষণ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক ফরেনসিক চিকিৎসক।
মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার সান ইসিদ্রো আদালতে ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান মামলায় সাক্ষ্য দেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কার্লোস কাসিনেল্লি।
তিনি বলেন, বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকার সময় ম্যারাডোনার দুই পায়ে পানি জমেছিল, আঙুল ফুলে গিয়েছিল। এর পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ও অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছিল।
কাসিনেল্লির দাবি, এসব উপসর্গ গুরুতর শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত দিলেও চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি। বিশেষ করে পায়ে পানি জমার কারণ খুঁজে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার মতে, ওই পরিস্থিতিতে ম্যারাডোনাকে বাড়িতে না রেখে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত ছিল।
হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরও ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। তবে তখনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার এবং বিপদের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার সুযোগ ছিল বলে আদালতে জানান কাসিনেল্লি।
ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের তথ্যও আদালতে তুলে ধরেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাঁর ফুসফুসে গুরুতরভাবে তরল জমেছিল। মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল তাঁর।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে বিচার চলছে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের মাদক ও অ্যালকোহল ব্যবহারের কারণে ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থা জটিল ছিল এবং তার মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই হয়েছে।

