

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার (২০ জুলাই) রাত ১টায় মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ম্যাচটি ঘিরে সম্ভাব্য রেকর্ডের তালিকা এতটাই সমৃদ্ধ যে, ফল যাই হোক না কেন, ইতিহাসে নতুন কিছু যোগ হওয়া প্রায় নিশ্চিত।
ফাইনালে জয় পেলে ৬৪ বছর পর টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। এর আগে কেবল ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২) এই অর্জন করতে পেরেছে। একই সঙ্গে এটি হবে আলবিসেলেস্তেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা, যা তাদের জার্মানি ও ইতালির সমকক্ষ করে তুলবে। পাঁচটি শিরোপা নিয়ে তখনও শীর্ষে থাকবে ব্রাজিল।
আর্জেন্টিনা জিতলে কোচ লিওনেল স্কালোনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় কোচ হিসেবে দুটি শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বেন। বর্তমানে এই রেকর্ডের একমাত্র মালিক ইতালির ভিত্তোরিও পোজ্জো, যিনি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালিকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। একই কোচের অধীনে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের ঘটনাও ঘটবে ৮৮ বছর পর।
ফাইনালে জিততে পারলে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুইবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন। ২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬—এই তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক হিসেবে তিনি আগেই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন।
এছাড়া ফাইনালে মাঠে নামলেই কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবেন মেসি। শুরুর একাদশে থাকলে তিনটি ফাইনাল শুরু করা প্রথম খেলোয়াড়ও হবেন তিনি।
ফাইনালের দিন মেসির বয়স হবে ৩৯ বছর ২৫ দিন। মাঠে নামলেই বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি। গোল করতে পারলে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার রেকর্ডও নিজের করে নেবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এটি হবে তার ক্যারিয়ারের ৩৪তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, ফলে নিজের দখলে থাকা সর্বাধিক বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করবেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচের সবগুলোতেই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় বা অতিরিক্ত সময়ে ফাইনাল জিততে পারলে বিশ্বকাপের এক আসরে আটটি আনুষ্ঠানিক ম্যাচ জেতা প্রথম দল হবে তারা। তবে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে পরিসংখ্যানে সেটি ড্র হিসেবে গণ্য হবে।
টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। ইতালির দীর্ঘদিনের রেকর্ড তারা ইতোমধ্যেই স্পর্শ করেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নির্ধারিত বা অতিরিক্ত সময়ে হার এড়াতে পারলেই ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এককভাবে বিশ্বরেকর্ড গড়বে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন। গোলরক্ষক উনাই সিমন ছয়টি ক্লিন শিট রেখেছেন, যা এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। ফাইনালেও গোল না খেলে ক্লিন শিটের সংখ্যা হবে সাত। পাশাপাশি মাত্র একটি গোল হজম করে বিশ্বকাপ জয়ের নজিরও গড়তে পারে স্প্যানিশরা।
স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলে ৬৫ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জেতা সবচেয়ে প্রবীণ কোচ হবেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বর্তমানে এই রেকর্ড রয়েছে ২০১০ সালে স্পেনকে শিরোপা জেতানো ভিসেন্তে দেল বস্কের দখলে।
ল্যামিন ইয়ামাল ফাইনালে খেললে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ফাইনালে মাঠে নামবেন। গোল করলে পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফাইনাল গোলদাতার রেকর্ড গড়বেন তিনি।
অন্যদিকে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি দুজনই ফাইনালে খেললে কিশোর বয়সে সর্বাধিক বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার নতুন রেকর্ড গড়বেন।
মেসি ও ইয়ামাল দুজনই যদি শুরুর একাদশে থাকেন, তাহলে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রতিপক্ষ দুই দলের খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সের ব্যবধানের রেকর্ড গড়া হবে। তাদের বয়সের পার্থক্য ২০ বছর ১৯ দিন।
চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করে স্পেনের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। ফাইনালে আরেকটি গোল করলেই তিনি এককভাবে এই রেকর্ডের মালিক হবেন।
রোববারের ফাইনাল তাই শুধু দুই পরাশক্তির শিরোপা লড়াই নয়, বরং অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ডের মঞ্চ। একদিকে মেসির অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে ইয়ামালের তারুণ্য—সব মিলিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হওয়ার অপেক্ষা।
