

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্লাব ফুটবলে বহুবার আলোচনার জন্ম দেওয়া হ্যারি কেইন ও আর্লিং হালান্ড এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। ইংল্যান্ড ও নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াইয়ে দুই দলের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে তাদের দুই ফুটবলারের পারফরম্যান্সের ওপর।
শেষ ষোলোতে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ব্রাজিলকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক দেখিয়েছে নরওয়ে। ফলে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে দলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে কেইন ও হালান্ডের ব্যক্তিগত লড়াইও।
টুর্নামেন্টে গোলের হিসাবে আপাতত এগিয়ে আছেন হালান্ড। নরওয়ের এই স্ট্রাইকারের গোল সংখ্যা সাত। তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র একটি গোল পিছিয়ে। অন্যদিকে কেইনের গোল ছয়টি।
হালান্ডের পারফরম্যান্স আরও চোখে পড়ার মতো একটি কারণে। নকআউট নিশ্চিত হওয়ায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন তিনি। অর্থাৎ কেইনের তুলনায় একটি ম্যাচ কম খেলেই সাত গোল করেছেন নরওয়েজিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
পরিসংখ্যানও হালান্ডের পক্ষে কথা বলছে। প্রতি ৯০ মিনিটে তার গোলের গড় ১.৮, যেখানে কেইনের ১.২। এক্সপেক্টেড গোল (এক্সজি) হিসাবেও এগিয়ে হালান্ড—৪.৪, আর কেইনের ৩.৪। অর্থাৎ গোল করার মতো সুযোগ তৈরি ও কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে নরওয়ের অধিনায়ক।
দুই স্ট্রাইকারের গোলের ধরনেও আছে পার্থক্য। হালান্ডের সাতটি গোলই এসেছে ওপেন প্লে থেকে। এর মধ্যে চারটি বাঁ পায়ে, দুটি ডান পায়ে এবং একটি হেডে। অন্যদিকে কেইনের ছয় গোলের দুটি এসেছে পেনাল্টি থেকে। বাকি গোলগুলোর মধ্যে তিনটি হেডে এবং একটি ডান পায়ে।
তবে পুরো মৌসুমের হিসাব টানলে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩। এই সংখ্যায় তিনি এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় ইতিহাসের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তার সামনে আছেন শুধু ২০১১–১২ মৌসুমে ৮২ গোল করা লিওনেল মেসি।
হালান্ডও পিছিয়ে নেই। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৩৮ এবং নরওয়ের হয়ে মাত্র ১১ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে মৌসুমে তার গোল ৫৮। পাশাপাশি চার মৌসুমের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট।
জাতীয় দলের জার্সিতে হালান্ডের ধারাবাহিকতাও অসাধারণ। ২০২৪ সালের পর থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই গোলশূন্য ফেরেননি তিনি। টানা ১৪ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করে ইতিমধ্যে দেশের হয়ে ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোলের মাইলফলকে পৌঁছে গেছেন। এতে নরওয়ের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও এখন তার দখলে।
ইংল্যান্ডের হয়ে একই কৃতিত্ব আগেই নিজের করে নিয়েছেন কেইন। ১১৯ ম্যাচে ৮৫ গোল করে তিনি অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছেন ওয়েন রুনিকে। চলতি বিশ্বকাপেই ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়েছেন এই স্ট্রাইকার।
গোলের পাশাপাশি আক্রমণ গঠনে কেইনের অবদানও উল্লেখযোগ্য। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার একটি অ্যাসিস্ট রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের দৌড়ে হালান্ডের সঙ্গে গোলসংখ্যা সমান হলে অ্যাসিস্টের হিসাবে কেইন এগিয়ে থাকবেন। ক্লাব ফুটবলেও গত মৌসুমে হালান্ডের তুলনায় বেশি সুযোগ তৈরি, বেশি পাস এবং বলে বেশি স্পর্শ করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
অন্যদিকে শুধু গোল করাই যে হালান্ডের একমাত্র কাজ নয়, সেটিও প্রমাণ করেছেন তিনি। গত মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে কেইনের সাত অ্যাসিস্টের বিপরীতে হালান্ডের ছিল নয়টি।
সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে শুধু ইংল্যান্ড–নরওয়ে লড়াই নয়, বিশ্ব ফুটবলের সেরা দুই স্ট্রাইকারের ব্যক্তিগত দ্বৈরথও হতে যাচ্ছে ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ।

