

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যক্তিগত রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ।সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তার বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। সামনে আছেন শুধু লিওনেল মেসি, যার গোল ১৯টি। চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও দুজনই ৬ গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। তবে এত কিছুর পরও ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ভাবতে রাজি নন ফ্রান্স অধিনায়ক। তার কাছে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বিশ্বকাপ ট্রফি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর এমবাপ্পে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য যত দূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া। আমরা ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে খেলতে চাই এবং ট্রফি জিততে চাই। ধাপে ধাপে সেদিকেই এগোচ্ছি।’
মাত্র ১৮টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ১৮ গোল করেছেন এমবাপ্পে। ফলে মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলার সুযোগও তার সামনে। কিন্তু এ নিয়ে বাড়তি আগ্রহ দেখালেন না ফরাসি ফরোয়ার্ড।
তার ভাষায়, ‘আমি নিশ্চিত, লিও আরও গোল করবে। তাই এটি নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবছি না। আমি বেশি ভাবছি আমাদের পরের প্রতিপক্ষকে নিয়ে এবং আমরা ফাইনালের কতটা কাছে যেতে পারছি।’
সুইডেনের বিপক্ষে প্রথমার্ধের শেষ দিকে বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া নিখুঁত শটে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের গোলসংখ্যা ৯-এ নিয়ে যান এমবাপ্পে। এতে তিনি লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওর ৮ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। পরে দ্বিতীয় গোল করে নকআউট পর্বে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ১০-এ নেন।
প্রথম গোলের পর সরাসরি কোচ দিদিয়ের দেশমর কাছে ছুটে যান এমবাপ্পে। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে ফ্রান্সের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দলের সঙ্গে ছিলেন না দেশম। সুইডেন ম্যাচে ডাগআউটে ফেরার পর কোচকে জড়িয়ে ধরে সমর্থনের বার্তা দেন ফরাসি অধিনায়ক।
এমবাপ্পে বলেন, ‘তিনি জানেন, তিনি কখনো একা নন। আমরা সব সময় তার পাশে আছি।’
দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আরও আধিপত্য বিস্তার করে। ৫৩ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৪ মিনিটে মাইকেল অলিসর পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। এতে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা বেড়ে হয় ৬।
এখন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসি ও এমবাপ্পে সমানে সমান। তবে এমবাপ্পে পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত রেকর্ড কিংবা ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ দলকে শিরোপা জেতানো।
শেষ ষোলোর ম্যাচে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা দলটিকে সমীহ করছেন এমবাপ্পে। তার মতে, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নামার আগে ফ্রান্সের আরও উন্নতি করতে হবে। তবে দলের আক্রমণভাগের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তার।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের দরজায় দাঁড়িয়েও এমবাপ্পের ভাবনা তাই একটাই—রেকর্ড পরে হলেও চলবে, আগে বিশ্বকাপ ট্রফি।

