

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মাঠের সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে বিপুল পরিমাণ নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে নরওয়ে দল। কোনো ধরণের ঝুঁকি না নিতেই এমন কাজ করেছে দলটি। সব মিলিয়ে এই খাবারের ওজন ১ টন বা ১ হাজার কেজির বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমে ফুটবলারদের ক্লান্তি দূর করতে, শরীরে পুষ্টির জোগান ঠিক রাখতে নরওয়ে দল এই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি নিয়েছে।
বিশ্বকাপে নরওয়েজিয়ান ডায়েট
কেবল মুখের স্বাদ বা আরামের জন্য নয়, চেনা রুটিন ধরে রাখতেই বিপুল পরিমাণ খাবার নিয়ে বিশ্বকাপে হাজির হয়েছে নরওয়ে। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পর থেকেই নরওয়ে তাদের মূল প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই খাবারদাবারের বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপে ফিরছে নরওয়ে
খেলোয়াড়দের খাবারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আছে মাছ আর নরওয়েজিয়ান চিজ। খাবারদাবারের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে আছেন নরওয়ের একজন নামকরা ও পুরস্কারজয়ী শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড। আর্লিং হলান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের মতো তারকা ফুটবলারদের পুষ্টি ও খাবারের দেখভালের জন্যই তিনি নরওয়ে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
অ্যারন বলেছেন, ‘আমরা যা ভালো বলে মনে করি, ঠিক সেটাই চাই। আর নরওয়ের সেরা উপাদানগুলো নিয়ে কাজ করি। সেরা খাবারটা খেলোয়াড়দের পাতে দিতে পারাটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।’
এবারই প্রথম নয়
বড় কোনো টুর্নামেন্টে নিজেদের খেলোয়াড়দের খাবারের যত্ন নেওয়া নরওয়ের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও ২০১৮ সালের অলিম্পিকে নরওয়ে দল খাবারের কারণে খবরে উঠে এসেছিল।
সেবার ভুল করে ১ হাজার ৫০০ ডিমের জায়গায় তারা ১৫ হাজার ডিমের অর্ডার দিয়ে ফেলেছিল। অলিম্পিকের সেই ঘটনা মজার হলেও এটি প্রমাণ করে অ্যাথলেটদের খাবার ও পুষ্টি নিয়ে নরওয়ে সব সময়ই অনেক সতর্ক।
খেলোয়াড়দের খাবারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আছে মাছ আর নরওয়েজিয়ান চিজ
অলিম্পিকের সেই ভুলের চেয়ে নরওয়ের এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের পরিকল্পনাটি বেশ গোছানো ও বাস্তবসম্মত। নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যেন নরওয়ে দল যুক্তরাষ্ট্রে এসেও ঘরের মতো চেনা খাবার পায়। এতে তাদের চেনা রুটিন যেমন ঠিক থাকবে, তেমনি বাইরের কোনো ঝামেলার কারণে খেলায় মনোযোগও নষ্ট হবে না।
এর আগেও বিশ্বকাপে এমন ঘটনা দেখা গেছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল দেশ থেকে প্রায় ৯০০ কেজি গরুর মাংস সঙ্গে নিয়ে এসে খবরের শিরোনাম হয়েছিল। যার ফল সবাই দেখেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিষয়টিকে মার্কিন খাবারের প্রতি নরওয়ের অবিশ্বাস হিসেবে দেখছে। তবে দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসল কারণটি পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক ও পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত।
