

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকা উসমান দেম্বেলে মাঠে যেমন সাফল্যের চূড়ায়, ব্যক্তিগত জীবনেও তেমনি রহস্যে ঘেরা। ২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের স্ত্রী রিমা এদবুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় মুখ হলেও নিজের পরিচয় ও পারিবারিক জীবনকে সবসময় আড়ালেই রেখেছেন। ফলে ফুটবলভক্তদের কাছে এই দম্পতির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল দিন দিন আরও বেড়েই চলেছে।
মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে দেম্বেলে সারাক্ষণ প্রচারের আলোয় থাকলেও, তার ব্যক্তিগত জীবন কিন্তু একেবারেই আড়ালে। বিশেষ করে তার স্ত্রী রিমা এদবুশকে নিয়ে ভক্তদের কৌতুহলের শেষ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় একজন ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনোই নিজের মুখ কিংবা তাদের কন্যাসন্তানের ছবি প্রকাশ করেন না। দেম্বেলে এবং রিমার এই গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়টি কোনো ব্যবসায়িক বা মার্কেটিং কৌশল নয়, বরং এটি তাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ।
২০২১ সালে অত্যন্ত ঘরোয়া ও ব্যক্তিগত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জুটি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে খুব একটা পোস্ট করেন না এবং নিজেদের লাইফস্টাইলকে বেশ সাধারণ ও আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে রিমার ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। তবে ফুটবল বিশ্বের অন্যান্য তারকাদের স্ত্রীদের মতো তিনি তার পারিবারিক জীবনের খুঁটিনাটি সেখানে শেয়ার করেন না। ফরাসি স্ট্রাইকার দেম্বেলের সঙ্গে তার কোল আলো করে আসা কন্যাসন্তানের কোনো ছবিও তিনি কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেননি।
দেম্বেলের সাথে বিয়ের আগেই রিমা একজন সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। মরক্কো বংশোদ্ভূত রিমা মূলত টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ফ্যাশন, নতুন ট্রেন্ড এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক কনটেন্ট তৈরি করে বিশাল এক ভক্তকুল গড়ে তোলেন।
বর্তমানে তার ডিজিটাল প্রোফাইলগুলোর নান্দনিকতা বা থিম আগের মতোই রয়েছে। তার পোস্টে মূলত বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ছবি, আকর্ষণীয় পোশাকের আউটফিট, সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ এবং ফ্যাশন জগতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তোলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় থাকলেও তিনি তার দৈনন্দিন জীবনের কেবল নির্দিষ্ট কিছু অংশই ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করেন এবং পারিবারিক বিষয়গুলো কঠোরভাবে এড়িয়ে চলেন।
রিমার প্রোফাইলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং রহস্যময় দিক হলো, তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে তার নিজের মুখ এবং মেয়ের চেহারা আড়ালে রাখেন। যদিও এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ নিয়ে তিনি কখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি, তবে অনেকেই মনে করেন এটি মূলত তাদের পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা এবং তার মরক্কান সংস্কৃতি ও ইসলামিক ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধেরই একটি অংশ। একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে এই পর্দা বজায় রেখেই তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় মহাতারকার স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও নিজের এক অনন্য ও মার্জিত পরিচয় ধরে রেখেছেন।
