

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামীকাল উত্তর আমেরিকার তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। মোট ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এবারের আসরে। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানি নামটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এক দীর্ঘ ইতিহাস।
চার চারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে ডাই মানশাফটদের। তবে মাঠের বাস্তবতায় জার্মানির ফুটবল এখন দাঁড়িয়ে আছে বৈপরীত্যের মুখে।
১৯৫৪ সালের ‘মিরাকল অফ বার্ন’ কিংবা ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানোর স্মৃতি, আর অন্যদিকে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের ক্ষত। এই দুই অবস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।
বাছাইপর্বে ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে ধাক্কা খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ায় নাগেলসমানের দল। শেষ ম্যাচে সেই স্লোভাকদেরই ৬-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’র শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে তারা।
২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের আগে দলের দায়িত্ব নেন নাগেলসমান। ক্লাব ফুটবলে ভিন্ন মেজাজের জন্য পরিচিত এই কোচ জাতীয় দলের ডাগআউটে এসে নিজের কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর অধীনে জার্মানি এখন মাঠের নিয়ন্ত্রণে এবং রক্ষণভাগে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
হান্সি ফ্লিকের আমলের পাসিং ফুটবল থেকে সরে এসে নাগেলসমান দলকে রক্ষণাত্মকভাবে শক্ত করেছেন, তবে কাউন্টার অ্যাটাকের চিরাচরিত জার্মান ধাঁচটি বজায় রেখেছেন। ইয়োশুয়া কিমিখ ও ডেভিড রাউমের মতো ফুলব্যাকরা যখন প্রান্ত ছেড়ে ভেতরের দিকে ঢুকে মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলেন, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি হয়।
এই ছকের মূল ভরসা হলেন জামাল মুসিয়ালা এবং ফ্লোরিয়ান ভাইর্টজ। দুই প্লেমেকারের ফর্মের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বকাপে জার্মানির গতিপথ। তবে ক্লাব বিশ্বকাপে গোড়ালির চোটে পড়া মুসিয়ালা কত দ্রুত নিজের চেনা ছন্দে ফিরবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
হাভার্টজের চোটের কারণে টিম ক্লেইনডিন্স্ট বা নিক ভোল্টমেডদের মতো বিকল্পদের পরখ করতে হচ্ছে নাগেলসম্যানকে। সব মিলিয়ে, ২০২৫ নেশনস লিগের সেমিফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার কিংবা বাছাইপর্বের কিছু পারফরম্যান্স জানান দিচ্ছে, জার্মানি এখনও স্বরূপে ফিরতে পারেনি।
কুরাসাও, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডরকে নিয়ে গড়া ‘ই’ গ্রুপটি সহজ মনে হলেও, অতীত অভিজ্ঞতা বলছে জার্মানিকে সতর্ক থাকতে হবে। উত্তর আমেরিকার মাটিতে এই মিশন তাই জার্মানির জন্য কেবল আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং ফুটবলে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াই।
মাত্র ২৮ বছর বয়সে হফেনহেইমের দায়িত্ব নিয়ে পরিচিতি পান ইউলিয়ান নাগেলসমান। পরে লাইপজিগ ও বায়ার্ন মিউনিখ ঘুরে কোচ হন জাতীয় দলের। ক্লাব ফুটবলে তাঁকে রাগী ও অহংকারী মনে করা হলেও, জার্মানিকে পুনরুজ্জীবিত করে বেশ ভালোই জনপ্রিয়তা পান। ইউরো ২০২৪ ইউরোয় বিদায়ের পর তাঁর অশ্রুসজল চোখ সবার নজর কাড়ে। তবে ২০২৫ নেশনস লিগে পর্তুগালের কাছে হার এবং বাছাইপর্বে কাঠখড় পোড়ানোর কারণে তাঁর প্রস্তুতি নিখুঁত ছিল না।
ড্রিবলিং, ফুটবল বুদ্ধিমত্তা ও পরিশ্রমের ক্ষমতা নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপাতে প্রস্তুত ফ্লোরিয়ান ভাইর্টস। কোচ নাগেলসমান তাঁকে কেন্দ্র করেই সাজাচ্ছেন দল। জাতীয় দলের হয়ে ৩৯ ম্যাচে ১০ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট করা এই তারকা ২০২১ সালে অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে জেতেন ইউরো। জাবি আলোনসোর অধীনে ২০২৩-২৪ মৌসুমে লেভারকুসেনকে ঘরোয়া ডাবল জেতাতে মূল ভূমিকা রাখেন তিনি। ক্লাবটির হয়ে ১৯৭ ম্যাচে ৫৭ গোল করার পর বুন্দেসলিগার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন লিভারপুলে।
র্যাঙ্কিং: ১০ অংশগ্রহণ: ২১ ডাকনাম: ডাই মানশাফট সর্বোচ্চ সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (১৯৫৪,১৯৭৪, ১৯৯০,২০১৪) অঞ্চল: ইউরোপ
