শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের ঈদের দিন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:০৯ পিএম
expand
টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের ঈদের দিন

আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু করলো পাকিস্তান, আর শুরুতেই বাজিমাত। লাহোরে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯৩ রানে হারিয়ে যেন ঈদের খুশি নেমে এসেছে পাকিস্তান টিমে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান শিরোপাধারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এমন জয় যেন ঈদের আনন্দই এনে দিয়েছে পাকিস্তান শিবিরে। বিশেষ করে লাহোরের স্পিন-সহায়ক উইকেটে পাকিস্তানি বোলাররা যেভাবে আধিপত্য দেখিয়েছে, তাতে প্রতিপক্ষের টিকেই থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছিল।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান তোলে ৩৭৮ রান। জবাবে প্রোটিয়ারা করতে পারে ২৬৯। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭৭ রান।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও লড়াকু বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১৮৩ রানে গুটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের দুই বোলার—নোমান আলী ও শাহিন শাহ আফ্রিদি—মিলে দ্বিতীয় ইনিংসেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। আফ্রিদি ৪ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভাঙেন প্রতিরোধ। অন্যদিকে নোমান পুরো ম্যাচজুড়ে স্পিনে জাদু ছড়িয়ে ১০ উইকেট শিকার করেন, যার সুবাদে তিনি হন ম্যাচসেরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ভেঙে পড়ে টপ-অর্ডারেই। একমাত্র কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কাইল ভেরাইন, যিনি ১৯ রানে আউট হওয়ার আগে কয়েকটি ছোট জুটি গড়েন। তার আগে দেওলাদ ব্রেভিস ঝড় তুলেছিলেন ৫৪ বলে ৫৪ রানের ইনিংসে। তবে সেটি ছিল ক্ষণিকের ঝলক। প্রথম ইনিংসে শতক করা টনি ডি জর্জিও এই ইনিংসে বড় কিছু করতে পারেননি।

পুরো ম্যাচে স্পিনাররাই ছিলেন ম্যাচের মূল নায়ক। পাকিস্তানের হয়ে সাজিদ খান ৫ উইকেট শিকার করেন, আর আফ্রিকান স্পিনারদের মধ্যে সেনুরান মুথুসামির ছিল ১১ উইকেট, সিমন হারমার নেন ৫টি।

পাকিস্তানের পেস আক্রমণের নেতৃত্বে থাকা শাহিন শাহ আফ্রিদি দুই ইনিংসেই ছিলেন কার্যকর। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেট তুলে নেন, যার মধ্যে শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেটও ছিল।

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে দুই ম্যাচের সিরিজে এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু করলো দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন