

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন দল। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে একাধিক ম্যাচ জয়ের নজির গড়ল টাইগ্রেসরা।
সাউদাম্পটনে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুটা ছিল বেশ হতাশাজনক। দলীয় ১৩ রানের মধ্যেই ফিরে যান দিলারা আক্তার (৫), শারমিন আক্তার (০) ও জুয়ারিয়া ফেরদৌস (৭)। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে হাল ধরেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ৩৮ বলে ৩৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে স্থিতিশীলতা এনে দেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে সোবহানা মোস্তারির সঙ্গে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। শোভনাও ১৯ বলে ২২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহ এগিয়ে নেন।
বাংলাদেশের সংগ্রহ একসময় বড় স্কোরে পৌঁছাবে বলে মনে হয়নি। তবে শেষদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন স্বর্ণা আক্তার। সাত নম্বরে নেমে মাত্র ২২ বলে ৫ চার মেরে অপরাজিত ৩৯ রান করেন তিনি। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৩ রান তোলে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে ফাতিমা সানা ১৮ রানে ২ উইকেট নেন।
১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করে। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন মুনিবা আলি ও গুল ফিরোজা। গুল ২৩ এবং মুনিবা ২৫ রান করেন। তবে এই জুটি ভাঙার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।
স্পিন আক্রমণে পাকিস্তানের রান তোলার গতি থামিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। নাহিদা আক্তার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিন উইকেট তুলে নেন। সমানভাবে কার্যকর ছিলেন সানজিদা আক্তার মেঘলা, তিনিও শিকার করেন তিন ব্যাটারকে। রাবেয়া খান ও রিতু মনি একটি করে উইকেট যোগ করেন।
মাঝের ওভারগুলোতে ধারাবাহিক ডট বল ও আঁটসাঁট বোলিংয়ের কারণে প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকে পাকিস্তানের। চাপ সামলাতে গিয়ে তারা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন স্বর্ণা আক্তার।
