

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী নিউজিল্যান্ড। তবে নিজেদের ফেভারিট মনে করছে না কিউইরা। দলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার জানিয়েছেন, এবার অন্তত একবার প্রতিপক্ষের স্বপ্ন ভেঙে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ পেতে চান তারা।
ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। গত ১১ বছরে সাদা বলের (ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি) বিশ্বকাপে এটি নিউজিল্যান্ডের পঞ্চম ফাইনাল।
তবে এতগুলো ফাইনালে উঠেও এখনো পুরুষদের কোনো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা হয়নি কিউইদের। তাই এবারের সুযোগটি কাজে লাগাতে মুখিয়ে আছে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে স্যান্টনার বলেন, সাধারণত তারা প্রতিপক্ষের হৃদয় ভাঙতে চায় না, কিন্তু ট্রফি জিততে হলে এবার সেই কাজটিও করতে রাজি আছেন।
ফাইনাল ম্যাচে প্রায় এক লাখ দর্শক মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেন। এছাড়া টেলিভিশনের সামনে বসে ম্যাচটি দেখবেন কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। তাদের বেশিরভাগই স্বাগতিক ভারতের সমর্থক হওয়ায় ভারতের ওপর চাপ বেশি থাকবে বলে মনে করেন স্যান্টনার। তার মতে, নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যাশা ভারতীয় দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে, আর সেই চাপকে কাজে লাগাতে চাইবে নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডের অনুপ্রেরণার একটি বড় উদাহরণ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল। একই আহমেদাবাদে সেই ম্যাচে স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবারও ভারতের ওপর প্রত্যাশার চাপ স্পষ্ট ছিল। ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারায় শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল তাদের। কিউইরা চাইছে এবারও তেমন পরিস্থিতি তৈরি করতে।
তবে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে থামানো সহজ হবে না—এ কথা স্বীকার করেছেন স্যান্টনার। তার মতে, শক্তিশালী কোনো দলের বিপক্ষে সাফল্য পেতে হলে শুরুতেই উইকেট নেওয়া জরুরি। এরপর মাঝের ওভারগুলোতে চাপ তৈরি করে রান প্রবাহ আটকে রাখতে হবে।
এই বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচগুলোতে দুইশর বেশি রান তাড়া করা কিংবা করা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা থাকবে ভারতকে প্রায় ২২০ রানের মধ্যে আটকে রাখা।
কিউইদের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অফ স্পিনার কোল ম্যাককনচি এবং অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস। এবারের বিশ্বকাপে অফ স্পিনের বিপক্ষে ভারতের ব্যাটাররা তুলনামূলক কম সফল হওয়ায় এই কৌশল কাজে লাগাতে চাইছে নিউজিল্যান্ড।
ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় অফ স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলেও মনে করছে কিউই শিবির। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বড় শক্তি তাদের ওপেনিং জুটি। ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের জুটি এবারের বিশ্বকাপে সাত ইনিংসে ৪৬৩ রান সংগ্রহ করেছে এবং দুটি শতরানের জুটি গড়েছে।
বিশেষ করে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসেন ফিন অ্যালেন। তাই ফাইনালেও এই ওপেনিং জুটির ওপর বড় ভরসা রাখছে নিউজিল্যান্ড।
সব মিলিয়ে আহমেদাবাদের ফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। এখন দেখার বিষয়, নিজেদের মাঠে ভারত আধিপত্য ধরে রাখতে পারে কি না, নাকি নিউজিল্যান্ড সত্যিই প্রতিপক্ষের স্বপ্ন ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ে।
মন্তব্য করুন
