

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশকে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও বড় সংকটে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচ নিয়ে চলমান চাপা উত্তেজনার কারণে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকায়। আর এর প্রভাবে ক্ষতি হতে পারে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের।
আইসিসির সম্প্রচার স্বত্ব চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে সংস্থাটির আয় হওয়ার কথা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলে, তাহলে এই আয়ের বড় অংশ ঝুঁকিতে পড়বে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে জিও হটস্টার আগামী চক্রে আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি নবায়ন নাও করতে পারে।
২০২৩ সালে জিও হটস্টার এই স্বত্ব কিনেছিল ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি টাকায় যা ৩৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছিল প্রধান আকর্ষণ।
আইসিসির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, একক এই ম্যাচ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় হয়, যা প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমূল্য, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি।
এ ঘটনার সূত্রপাত হয় গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও বাবর আজম ভারতের বিপক্ষে খেলবেন না। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজন করতে মরিয়া আইসিসি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইসিসির আয় কমলে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো বোর্ডে, যাদের রাজস্বের বড় অংশ আসে আইসিসির বণ্টন থেকে। একই অবস্থায় শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড আংশিকভাবে ক্ষতিমুক্ত থাকবে, কারণ তারা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে বড় অঙ্কের আয় করেন।
মন্তব্য করুন

