

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ ছাড়া সচরাচর দুই দলের দেখা হয় না, তাই সমর্থকেরাও মাসের পর মাস অপেক্ষা করেন এই লড়াইয়ের জন্য। এবারের এশিয়া কাপে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। গ্রুপপর্বে ভারত জিতেছিল, আর সেই ম্যাচ শেষে হাত না মেলেই মাঠ ছেড়েছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। তখন থেকেই মাঠের বাইরেও তাপমাত্রা বেড়েছে। আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে সুপার ফোরে আবারও মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল।
ম্যাচটিকে ঘিরে মাঠের বাইরের পরিস্থিতিও বেশ আলোচিত। হ্যান্ডশেক বিতর্ক, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে নিয়ে মতবিরোধ, কিংবা পাকিস্তানের ধারাবাহিক সংবাদ সম্মেলন বাতিল—সব মিলিয়ে টানাপড়েন আরও বেড়েছে। আজকের ম্যাচের আগের নির্ধারিত প্রেস কনফারেন্সও বাতিল করেছে পাকিস্তান, যদিও অনুশীলন চালিয়ে গেছে তারা। বারবার গণমাধ্যম এড়িয়ে চলা দলীয় অস্থিরতার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানি দলে সাইম আইয়ুবকে ঘিরে চলছে আলাদা আলোচনা। ২০২৩ সালে অভিষেকের পর থেকেই তার কাছে অনেক প্রত্যাশা। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা না থাকলেও এবারের আসরে বল হাতে বিস্ময় ছড়াচ্ছেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে তার বোলিং গড় ৫.৬০ এবং ইকোনমিও ৫.৬০—যা অসাধারণ। ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে তিনি তিন উইকেট তুলে নিয়ে ছিলেন পাকিস্তানের সেরা অস্ত্র। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তার ভেতর আফ্রিদির ছায়া পাওয়া যায়—হঠাৎ ঝলক দিয়ে ম্যাচ জেতানো, আবার একই সঙ্গে কয়েক ম্যাচ ব্যর্থ হওয়া। তবে নির্বাচকেরা এখনো তার ওপর আস্থা রাখছেন, বিশেষ দিনে হয়তো সেই প্রতিভাই পার্থক্য গড়ে দেবে।
অন্যদিকে ভারতীয় শিবির তুলনামূলকভাবে শান্ত। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সংবাদ সম্মেলনে হাস্যরসের সঙ্গেই প্রশ্ন সামলেছেন। খেলোয়াড়দের চাপমুক্ত রাখার কৌশল হিসেবে তিনি বলেছেন, “ঘরের দরজা বন্ধ করো, ফোন বন্ধ করো, ঘুমাও।” ভারত ম্যাচটিকে অতিরিক্ত বোঝা নয়, বরং স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে।
তবে ম্যাচ রেফারি পাইক্রফটকে ঘিরে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। আগের ম্যাচে টসের সময় হ্যান্ডশেক না করানোর অভিযোগে পাকিস্তান তাকে সরানোর দাবি তুলেছিল। যদিও আইসিসি আপাতত সেই অধ্যায় শেষ করেছে, কিন্তু আজকের ম্যাচেও তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ম্যাচ শুরুর আগেই তার দিকে বাড়তি নজর থাকবে।
সব মিলিয়ে, আজকের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কেবল পয়েন্ট টেবিলের জন্য নয়, বরং প্রতিশোধের আবেগ, রাজনৈতিক প্রভাব, মাঠের বাইরের কূটনীতি এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা—সবকিছুর সমাহার হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান প্রতিশোধের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত, আর ভারত চায় ছন্দ ধরে রাখতে। জয়-পরাজয় যাই হোক, মানসিক লড়াইয়েও আজকের ম্যাচ দাগ কেটে যাবে।
মন্তব্য করুন

