

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ জানিয়ে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠায়নি বাংলাদেশ। তিন সপ্তাহ আগে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, সরাসরি সরকারের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই উপদেষ্টা। এবার তিনি জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেটারদের থেকে।
শুরুর দিকে আসিফ নজরুল প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই বাংলাদেশ সরকার ক্রিকেটারদের ভারতে যেতে অনুমতি দিচ্ছে না। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল সরকারের প্রধান বিবেচনা। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই অবস্থানে পরিবর্তন আসে।
ভারতের ‘কট্টরপন্থীদের’ হুমকির মুখে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা পরই মূলত ঘটনার সূত্রপাত হয়।
সে সময় সে সময় জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা সিলেটে বিপিএল খেলায় ব্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আইসিসিকে চিঠি লেখার এবং ভারত থেকে ভেন্যু সরানোর পরামর্শ দেন আসিফ নজরুল।
শুরুতে বিসিবির পরিচালকেরা তুলনামূলক নমনীয় ভাষায় আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও সরকারের অবস্থানের কারণে পরে সেটি বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত আইসিসিকে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে বৈঠকেও আসিফ নজরুল তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দুই দফায় চিঠি চালাচালি হলেও আইসিসির অবস্থান বদলায়নি। পরে আইসিসি একটি সভা ডাকে। সেখানে পাকিস্তান ছাড়া আর কোনো দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়নি। এরপর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশকে ভারতে গিয়ে খেলতেই হবে।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ডেকে বৈঠক করেন আসিফ নজরুল। কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনা হলেও বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে। ২২ জানুয়ারি তিনি তখনও স্পষ্ট করে বলেছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তটি সরকারের।
বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এসে বক্তব্যে পরিবর্তন আনলেন আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নের জন্য বিসিবির দেওয়া দুই কোটি টাকার অনুদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনার প্রশ্ন নেই। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বোর্ড নিজেরা ত্যাগ স্বীকার করে দেশের ক্রিকেট, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং দেশের মর্যাদার স্বার্থে এই অবস্থান নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
মন্তব্য করুন

