

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে দেশের উত্তরাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা বিভাগে বাজিমাত করতে চায় দলটি। ভোট সামনে রেখে ১১ দল মিলে জোট করলেও শরিক দলগুলোতে এই অঞ্চলের আসনে খুব কম ছাড় দিয়েছে।
তথ্যানুযায়ী, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটি ছেড়েছে শরিকদের। আর রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে শরিকদের জন্য ছেড়েছে তিনটি। আরও একটি বিভাগে আসন বণ্টনে জামায়াত ছাড় দেয়নি বললেই চলে। সেটি হলো খুলনা। এ বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ৩৫টিই নিজেদের প্রার্থীর জন্য রেখেছে।
এছাড়াও সীমান্তবর্তী এলাকার আসনগুলোকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যেমন রংপুর বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী ১৭টি আসনের মধ্যে ১৪টি নিজেদের হাতে রেখেছে। রাজশাহী, খুলনা, সিলেটের চিত্রও একই রকম।
তবে ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ আসনে শরিকদের ছাড় দিয়েছে জামায়াত। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে উত্তর চট্টগ্রাম, বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীতেও প্রায় অর্ধেক আসন ছেড়েছে।
শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোর তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ৮-১০টি বাদে বাকিগুলোতে অতীতে জামায়াতের শক্ত অবস্থান ছিল না। জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তাদের জোট এখন বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। জামায়াত, শরিক দল, দোদুল্যমান এবং বিএনপিবিরোধী ভোট যোগ করলে সারাদেশে সংখ্যাটি বেশ বড়। ফলে শরিকদের দুর্বল আসন ছাড়া হয়নি।
জামায়াত নেতারা বলছেন, দাঁড়িপাল্লা এখন শক্তিশালী প্রতীক। এনসিপির শাপলা কলিও তাই। ১৫ বছরের লড়াই-সংগ্রাম এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী ইতিবাচক ভূমিকার কারণে জামায়াত এখন বড় দল। সব আসনেই জামায়াত শক্তিশালী। তাই শরিকদের যেসব আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দুর্বল নয়।
শুরুর দিকে জামায়াত, এনসিপি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দল নির্বাচনি ঐক্য করেছিল। নানা অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন জোট ত্যাগ করে। পরে যুক্ত হয় মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি। এনসিপিকে পঞ্চগড়-১, দিনাজপুর-৫, কুড়িগ্রাম-২ এবং রংপুর-৪ আসন ছেড়েছে জামায়াত। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বাকি আট শরিক দলকে রংপুর বিভাগে একটিও আসন ছাড়েনি দাঁড়িপাল্লা।
জামায়াত দলীয়ভাবে যে তিনটি জরিপ করেছে, তাতে দাবি করা হয়েছে, রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনে অন্তত ২৫টিতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা জয়ী হবেন। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ৩৯টি আসনের ১৮টিতে নিশ্চিত জয় আশা করছে জামায়াত। আর বাকি আসনগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ধরে রাখছে দলটি।
অন্যদিকে ব্রেইন, ইনোভেশন, ন্যারেটিভসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরিপেও জামায়াত রংপুর ও খুলনা বিভাগে এগিয়ে রয়েছে বিএনপির চেয়ে। রাজশাহী বিভাগে অবস্থান প্রায় সমানে সমানে।
জামায়াতে ইসলামী ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৮ আসন পেয়েছিল। যা দলটির সর্বোচ্চ নির্বাচনি সাফল্য। ২০০১ সালে বিএনপির জোট শরিক হয়ে ১৭ আসন পেয়েছিল। এর সাতটি পেয়েছিল রংপুর থেকে। অন্যান্য বিভাগে আসন পেলেও ১৯৯১ সালে রাজবাড়ী জেলায় একটি আসন ছাড়া কখনো ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে জামায়াত জয়ী হতে পারেনি।
২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে প্রথম দুই পর্বে ৩০ উপজেলায় জয়ী হয়েছিল জামায়াত। যার অধিকাংশ ছিল রংপুর বিভাগের। পরের তিন ধাপে আরও ছয় উপজেলায় জয়ী হয় জামায়াত।
মন্তব্য করুন

