

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিওকাণ্ডে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন কয়েকটি ভিডিওতে ঘটনাস্থল নিয়ে ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। বিশেষ করে ‘নীলার বাড়ি’ প্রসঙ্গ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওতে করা বিভিন্ন দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মরিয়ম বেগম তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সঙ্গে রাজধানীর মগবাজারে তার দ্বিতীয় শ্বশুর মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন এবং আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে গোপনে ধারণ করা তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে সম্প্রতি প্রকাশিত আরও কয়েকটি ভিডিওতে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য শোনা যায়। ভিডিওতে উপস্থিত কয়েকজন যুবক ঘটনাস্থলকে ‘নীলার বাড়ি’ বলে দাবি করেন। তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এইটা নীলার বাসা। আগে আওয়ামী লীগ করত। এখন দেহ ব্যবসার জন্য বাড়ি ভাড়া দেয়।’
তবে ভিডিওতে করা এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
একই ভিডিওতে কয়েকজনকে গাজী নজরুল ইসলামকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘আগে কয়বার এসেছেন? সত্যি করে বলেন, কয়বার এসেছেন। আমরা কয়েক দিন দেখেছি আপনি এখানে আসেন। ধরতে পারছিলাম না।’
ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে হাতজোড় করে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের ছেড়ে দেন। আমরা অন্যায় করেছি।’
অন্যদিকে মরিয়ম বেগমকে তুলনামূলক শান্তভাবে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
ভিডিওতে উল্লেখ করা ‘নীলা’ নামের ওই নারীর পরিচয় কিংবা তার বাড়ির অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ভিডিওর কথোপকথন থেকে শুধু ধারণা করা যায়, ঘটনাটি ঢাকার কোনো এলাকায় ঘটেছে।
এর আগে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তিনি মরিয়ম বেগমকে বিয়ে করেন। ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে এ ঘটনাকে ঘিরে তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম, মরিয়ম বেগম এবং মরিয়মের বাবা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিও পৃথক ভিডিও বার্তায় বিয়ের দাবি সমর্থন করেছেন।
নতুন প্রকাশিত ভিডিওগুলোর বক্তব্য এবং গাজী নজরুল ইসলামের দেওয়া ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওতে থাকা বিভিন্ন দাবি ও বক্তব্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।