বুধবার
১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের পোস্ট সরাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দপ্তরের ফোন, অভিযোগ অ্যাক্টিভিস্টের

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ এএম
ছবি: ইব্রাহিম খলিল শাওন
expand
ছবি: ইব্রাহিম খলিল শাওন

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে লেখা সরাতে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর থেকে কল দিয়ে বলার অভিযোগ করেছেন ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট ইব্রাহিম খলিল শাওন।

সোমবার (১৩ জুলাই) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি লেখেন, ‘একটু আগে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর থেকে কল দিয়ে বলল আগের পোস্ট টা ডিলিট করে দিতে’।

এর আগে তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। পাঠকদের সুবিধার জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো, ‘শিক্ষামন্ত্রী মিলন আজকে জোর করে এইচএসসি পরীক্ষাটা নিয়েছে। দেশের চারদিকের বন্যা, জলাবদ্ধতা দেখে স্টুডেন্টরা ভেবেছিল হয়তো তাদের প্রতি একটু মায়াদয়া করা হবে, পরীক্ষাটা পেছানো হবে।কিন্তু নির্দয় শিক্ষামন্ত্রী সেসব করেনি। সে নিজের ইগো বাঁচাতে গিয়ে হুট করেই রাত ৭ টায় ঘোষণা দিয়েছে পরীক্ষা হবে।

যেহেতু পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল তাই শিক্ষার্থীরা বহু আকুতি মিনতি করেছিল কিন্তু সে মানেনি। তাই আজকে স্টুডেন্টরা বৃষ্টি মাথায় নিয়েই পরীক্ষার হলে গিয়েছে। কেউ গাড়ি পেয়েছে, কেউ পায়নি। গাড়ি না পেয়ে কেউ কেউ কোমর সমান পানিতে হেঁটে হেঁটেই হলে পৌঁছেছে। হাঁটতে গিয়ে এক পরীক্ষার্থী মেয়ে বারবার পড়ে যাচ্ছিল। তার ইউনিফর্ম, প্রবেশপত্র সবকিছু ভিজে যাচ্ছিল। কিন্তু তবুও সে উঠে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষাটা দিতে হবে যে! তারপর পরীক্ষার পুরোটা সময় জুড়ে ভেজা শরীর নিয়ে, ভেজা প্রবেশপথ নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে ওরা পরীক্ষাটা দিয়েছে।

এই পরীক্ষার সাথেই কতশত স্বপ্ন যে জড়িত। পরিবারের স্বপ্ন, বাবা-মায়ের স্বপ্ন , ওদের নিজেদের স্বপ্ন।

নাটোরের আরেক ছেলে মাত্র ১৫ মিনিট দেরি করায় তাকে হলে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ছেলেটার বাবা নেই, মা টাও অসুস্থ। ছেলেটা কেঁদে কেঁদে স্যারকে বহু আকুতি মিনতি করেছিল। বলেছিল- বৃষ্টির কারণে গাড়ি পাইনি স্যার, কোমর সমান পানিতে হেঁটে আসতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। প্লিজ স্যার, ঢুকতে দেন। কিন্তু তাকে ঢুকতে দেয়া হয় নাই। ছেলেটার এ বছরের পরীক্ষাটা বাতিল হয়ে গেল। না জানি কত স্বপ ছিল ছেলেটার। না জানি তার অসুস্থ মা টার কত স্বপ্ন ছিল।

চট্টগ্রামের আরেক মেয়ের ঘরবাড়ি, গরু-ছাগল সবকিছু ভেসে গেছে। ঘরে বিদ্যুৎ নাই, খাবার নাই, পানি নাই। মেয়েটা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলছিল- আমরা অনেক কষ্টে আছি, আমার বই ভিজে গেছে। কথাগুলো বলেই কাঁদছিল মেয়েটা।

ঘরে খাবার নেই কিন্তু বইগুলোর জন্যে দরদ কারণ পরীক্ষাটা তো দিতে হবে, বাবা-মায়ের স্বপ্নটা পূরণ করতে হবে। এমন শত শত পরীক্ষার্থী আজকে পরীক্ষা দিতে পারে নাই। যারা দিতে পেরেছে তাদেরও লেট হয়েছে কিংবা পরীক্ষাটা খারাপ হয়েছে। কারণ বন্যায় ভেসে যাওয়া ঘরবাড়ি আটকাতে গিয়ে পড়ার সুযোগটাই পায়নি ওরা।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার নাম্বার বুয়েটসহ সব ইঞ্জিনিয়ারিং এডমিশনেই প্রভাব ফেলে। নম্বইয়ের নিচে নাম্বার পেলে আবেদনটা পর্যন্ত করা যায় না। এ কারণে বহু স্টুডেন্ট সু*ইসাইডও করে। অথচ আজকে ওরা এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিয়েছে যে পাশ করাটাই একটা যুদ্ধ। এখন না জানি কতজনের এডমিশনের স্বপ্নটা নষ্ট হয়ে গেছে। পরীক্ষার্থীদের স্বপ্ন নষ্ট হোক তাতে শিক্ষামন্ত্রীর কিচ্ছু যায় আসে না। ওরা তো আর শিক্ষামন্ত্রীর সন্তান না।

শিক্ষামন্ত্রী ঠিকই তার মেয়েকে কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমেরিকার 'জন জে অব ক্রিমিনাল জাস্টিস' কলেজে পড়িয়েছে। এ কলেজে শুধুমাত্র পড়াশোনার খরচই ছিল ১,৮১,৫৮৪ মার্কিন ডলার যা বাংলা টাকায় প্রায় ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা! অথচ খোঁজ নিলে দেখা যাবে এগুলো আমার আপনারই কষ্টের ট্যাক্সের টাকা। প্যরাসাইড মুভিতে ধনী বাড়িওয়ালা তার ড্রাইভারকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলেছিল- আজকের বৃষ্টিটা কত সুন্দর, আকাশটা কত নীল, কোনো দূষণও নেই। বৃষ্টিকে ধন্যবাদ। অথচ এই বৃষ্টিতেই ড্রাইভারের পুরো ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, সবকিছু তলিয়ে গেছে।

বৃষ্টিটা একজনের জন্যে রোমান্টিকতার হলেও আরেকজনের জন্যে চরম দুর্দশার ছিল। আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর জন্যেও এই বৃষ্টিটা রোমান্টিকতার। কারণ তার বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, আমেরিকায় পড়া শিক্ষিত মেয়ে আছে।

অথচ সাধারণ জনগণের এসব নেই। ওদের ঘরভর্তি পানি, রাস্তায় পানি, পরীক্ষার হলে পানি। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হবার কিছুদিন পরই রেজাল্ট দিবে। সেদিন স্টেজে উঠে শিক্ষামন্ত্রী হাসি হাসি মুখ করে কড়া করে ভাষণ দিবে, নিজের ক্রেডিট নিবে।

অন্যদিকে আজকের পরীক্ষাটা খারাপ হওয়ায় বহু শিক্ষার্থীর A+ মিস হবে, এডমিশন মিস হবে, স্বপ্নটা ভেঙে যাবে। না জানি কতজন সু*ইসাইডের পথটাও বেছে নিবে। ওরা মরলে মরুক তাতে শিক্ষামন্ত্রীর কিইবা আসে যায়? দোষ আসলে শিক্ষামন্ত্রীর না, দোষটা পরীক্ষার্থীদেরই কারণ ওরা কোন মন্ত্রীর ঘরে জন্মায়নি। ওরা চাষাভুষা এক গরিব বাবার ঘরে জন্মেছে, যে ঘরটা সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
England VS Argentina
Scheduled
16 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup