রবিবার
১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনিরা শারমিনের নামে ভুল তথ্য ছড়ালেন গণঅধিকারের হানিফ

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ এএম আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ এএম
মনিরা শারমিন এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা হানিফ ।। এনপিবি কোলাজ
expand
মনিরা শারমিন এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা হানিফ ।। এনপিবি কোলাজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা হানিফ।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ৯টা ৮ মিনিটে দেওয়া স্ট্যাটাসে হানিফ দাবি করেন, মনিরা শারমিন একসময় আন্দোলনে যুক্ত থাকলেও পরে ক্যারিয়ার কেন্দ্রিক হয়ে পড়েন এবং ছাত্রলীগের এক নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

তবে এসব দাবিকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলেছেন মনিরা শারমিন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি এখনও অবিবাহিত এবং তাকে নিয়ে প্রচারিত বিয়ের তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য।

স্টাটাসে হানিফ লেখেন, মনিরা শারমিন আমাদের সাথে ২০১৮ সালে কিছুদিন আন্দোলন সংগ্রামে ছিলো। এর পর ক্যারিয়ার মূখ্য হয়ে উঠে তার কাছে। কথিত আছে ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরি নিয়েছিলো মনিরা শারমিন। এর পর আর অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় নি, জুলাই অভ্যুত্থানের শেষ দিকে এসে অনেকটা হাজিরা দিয়েই বড় নেত্রী বনে গেছেন। তার চেয়ে নুসরাত তাবাসসুমদের ভূমিকা হাজার গুণ বেশী। হাসিনার পতন না হলে মনিরা শারমিন রা এখনও আরামে সরকারি চাকরি করতো। ফ্যাসিবাদের আচড়ও তাদের গায়ে লাগতো না।

একই পোস্টে আবু হানিফ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক ভূমিকার পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নুরুল হক নুর ১৯ সালে বলেছিলো শেখ হাসিনার চেহারায় মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। অবশ্য এর পরের দিনই মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে হাসিনাকে স্বৈরাচার বলেছিলো। এমনকি অসংখ্য বার হাসিনার পতন চেয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছে। যার ফলে বার বার হামলার শিকার হয়েছে নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের অসংখ্য নেতাকর্মী। সবশেষ জুলাই আন্দোলনের সময়ও নুরুল হক নুর রিমান্ডে ছিলো। হাসিনার পতন না হলে নুরের কতদিন জেলে থাকা লাগতো বা আদৌ মুক্ত হত কিনা তা বলা কঠিন।

পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, নুরুল হক নুরের যখন আর কোন দোষ খুঁজে না পায় তখনই ঐই এক গান বার বার বাজায় এই মনিরা শারমিন রা। অথচ সারা বাংলাদেশের জনগণ জানে এই গণঅভ্যুত্থানের উদ্যোক্তা সংগঠন গণঅধিকার পরিষদ ও নুরুল হক নুর। ক্রেডিট নেওয়ার অনেক উপায় আছে কিন্তু নুরুল নুরকে অবদানকে অস্বীকার করে নিজেদের কে মহান করার কোন সুযোগ নাই।

এদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা আবু হানিফের স্ট্যাটাসের পর মনিরা শারমিন জানান, ‘নুরুল হক নুর, ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জুলাই গণ অভ্যুত্থানের নেতাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বার বার বিভিন্ন বক্তব্য দেয়। এর প্রতিবাদে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিই। কারণ, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে আমরা একসাথে আন্দোলন করি এবং সেই সময় নুরুল হক নুরসহ শীর্ষ নেতৃত্বের আপোসকামী মানসিকতার জন্য তরুণদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক আলাপ রাজনীতি দিয়ে ডিল না করতে পেরে আওয়ামী লীগের মত প্রোপ্রাগান্ডার অংশ হিসেবে নারীর চরিত্র হননের অপশনটিই তারা বেছে নিল। গণ অধিকারের একজন নেতা দেখলাম, আমার বিয়ের বিষয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। শুনলাম, আমি নাকি কোন ছাত্রলীগকে বিয়ে করেছি এবং সেই "পাওয়ারফুল" ছাত্রলীগ নেতা নাকি আমাকে চাকরি দিছে। হাস্যকর! অথচ আমি বিয়েই করি নাই। আর গল্প বানালেও আমার অনুরোধ বিশ্বাসযোগ্য গল্প বানানো উচিত যাতে লোকে বিশ্বাস করে। অবশ্য এদের নিয়ে কথা বলে এদের প্রাসঙ্গিকও করতে চাই না।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন