

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ চলছে এমন অভিযোগ এনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি।
শুক্রবার (০৫ জুন) সকালে দেওয়া এক দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, পরিবারের বিরুদ্ধে আরও ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চললেও এতদিন তিনি নীরব ছিলেন শুধু ভাইয়ের কথা ভেবে। তবে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন।
মাসুমা হাদি জানান, তার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঢাকায় গিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান এবং সেখানে এক মুহূর্তের জন্যও তিনি ভাইকে ছেড়ে যাননি। তার দাবি, হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কেন জাবেরের কাছ থেকে মামলার কাগজে স্বাক্ষর নিল, তা নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, ওমর ফারুক তখন চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত পরে দেখা হবে বলে জানিয়েছিলেন। তবে ওই সময় ওমরের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, গুলির ঘটনায় ওমর ফারুক নিজেও রক্তাক্ত ছিলেন এবং একই রিকশায় থাকায় তার জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ছিল। ওমরের পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রীতেও আহত ভাইয়ের রক্তের দাগ ছিল।
মামলার বাদী হওয়া প্রসঙ্গে মাসুমা হাদি প্রশ্ন তোলেন, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে কীভাবে জাবের বাদী হলেন। তিনি দাবি করেন, ওসমান হাদির জীবনে তার বড় বোন হিসেবে তার ভূমিকা সবারই জানা, তাই এ বিষয়ে তাকে অবগত না করা অস্বাভাবিক।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমর ফারুকের আর্থিক অবস্থা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগও করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই ওমর সচ্ছল জীবনযাপন করে আসছেন এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
চিকিৎসা প্রসঙ্গে মাসুমা হাদি বলেন, শুরুতে পরিবার নিজেরাই বিদেশে চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়। প্রথমে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর নথি গ্রহণ না হলেও পরে থাইল্যান্ডে পাঠানোর সাড়া পাওয়া যায়। তিনি জানান, ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসার প্রস্তুতি নেন। পরবর্তীতে সরকার বিষয়টি জেনে চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং শেষে সিঙ্গাপুরে নেওয়া সম্ভব হয়।
স্ট্যাটাসের শেষের দিকে মাসুমা হাদি বলেন, সম্মান করতে না পারলেও, কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
পরে তার মরদেহ দেশে আনা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন। পরে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। চলতি বছরের ৮ মার্চ হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স।
