

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাও উপস্থিতে পুলিশের এক কর্মকর্তা নির্দেশনা দিয়েছেন কুষ্টিয়ায় রমজান মাসে কোনো ক্যারাম খেলা, কোনো টিভি চলবে না।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এমন নির্দেশনা দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন।
এ ঘটনার মোবাইলে ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওতে দেখা যায়, হঠাৎ এক চা দোকানির দিকে আঙুল তুলে কড়া ভাষায় নির্দেশ দিতে শুরু করেন মসিউল। বলতে থাকেন, ‘ওই যে ক্যারম খেলতেছে। আমি বন্ধ করে দিছি কিনা? কেন চলল? আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির এক মাস কোনো ক্যারম, কোনো টিভি চলবে না। কেন চলল?’ পরে ক্যারাম বোর্ডের দিকে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি।
সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমির হামজা বলেন, ‘রমজান মাস, ইবাদতের মাস। যা-ই করবেন, নামাজের সময় যেন এইসব না করেন।
এদিকে, এ ঘটনার পরদিন শনিবার রাত ৮ টার দিকে ওই বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ওই চায়ের দোকানসহ বেশিরভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ।
কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান খুললেও শাটার অর্ধেক নামিয়ে রেখেছেন। বাজারের শেষ মাথায় খোলা ছিল শুধু একটি চায়ের দোকান। সেখানে টেলিভিশন চললেও বন্ধ ছিল ক্যারাম খেলা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চা বিক্রেতা রমজান মুখ লুকিয়ে ফেলেন। তারপর বলেন, ‘আমার এখানে এই কয়ডা লোকই বসে। তারা একটু টিভি দেখেন।
ওই ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা স্থানীয় কাশেম মেম্বার বলেন, ‘হঠাৎ এসব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদন-খেলাধুলার দরকার আছে। আমাদের চেয়ারম্যান, মেম্বাররাও মাঝে মধ্যে খেলতে আসেন। তবে টাকা দিয়ে ক্যারাম খেলা ভালো না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল বলেন, এটা ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আমি তো কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেইনি। ওপর মহলের নির্দেশ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, ওপরের নির্দেশেই আমরা কথা বলি। নিজে থেকে কিছু বলি নাকি!
তবে দোকানিদের বিষয়ে এমন ধরনের নির্দেশনা ছিল না বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিনও বলেছেন, এটা কোনো পুলিশি নির্দেশনা না। রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা থাকবে কিনা, সেটা আইন-কানুনের বিষয় না। মানুষের অনুভূতির বিষয়, মানা না মানার বিষয়। এ জন্য আমরা তো কাউকে জেল-ফাঁস দিতে পারবো না।
মন্তব্য করুন

