

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আল্লাহ তাআলার অশেষ শুকরিয়া আদায় করুন যে তিনি আপনাকে হিদায়াত দান করেছেন, সালাতের ওপর অটল রেখেছেন এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকার তাওফীক দিয়েছেন। সর্বদা তাঁর কাছে ঈমানের ওপর অবিচল থাকার দোয়া করুন। বিশেষ করে কুরআনের এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়ুন—‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদের হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে বিশেষ রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনিই মহাদাতা।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৮)
আর জেনে রাখুন, আল্লাহর রহমত অত্যন্ত ব্যাপক। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন, সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং অতীতের পাপের জন্য তাকে পাকড়াও করেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে এসো এবং তাঁরই আনুগত্য করো, তোমাদের ওপর শাস্তি আসার আগেই; এরপর আর তোমাদের সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা আয-যুমার, আয়াত : ৫৩-৫৪)
কিভাবে জান্নাতুল ফিরদাউস অর্জন করবেন?
এটি একটি মহত্ প্রশ্ন। এমন প্রশ্ন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ঈমানদার হূদয়ের পরিচয় বহন করে। আল্লাহর ইচ্ছায় নিম্নোক্ত আমলগুলো মানুষকে জান্নাতুল ফিরদাউসের দিকে নিয়ে যায়—
১. বিশুদ্ধ তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা: আল্লাহর ইবাদত একমাত্র তাঁরই জন্য খাঁটিভাবে করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা।
২. ইবাদতে আন্তরিক পরিশ্রম করা: নিয়মিত ও নিষ্ঠার সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা। নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা। দান-সদকা করা। রমজানের সিয়াম ও নফল রোজা রাখা। তাহাজ্জুদ ও রাতের ইবাদত করা। পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইত্যাদি।
৩. বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা: শুধু তিলাওয়াত নয়, বরং অর্থ বুঝে, গভীর চিন্তাসহকারে এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদের যা রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’ (সুরা ফাতির, আয়াত : ২৯)
৪. বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা: মানুষ ভুল করবেই। কিন্তু সফল সেই ব্যক্তি, যে ভুলের পর দ্রুত আল্লাহর কাছে ফিরে আসে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে।
৫. আল্লাহর কাছে বারবার জান্নাতুল ফিরদাউস প্রার্থনা করা: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে এক শ স্তর রয়েছে, যা আল্লাহ তাঁর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন। প্রতিটি স্তরের মধ্যকার দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যকার দূরত্বের সমান। তাই যখন তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করবে, তখন ফিরদাউসই প্রার্থনা করবে। কারণ সেটিই জান্নাতের সর্বোচ্চ ও মধ্যবর্তী স্থান। তার ওপরেই রয়েছে আরশে রহমান এবং সেখান থেকেই জান্নাতের নদীগুলো প্রবাহিত হয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৭৯০)
৬. নেক আমলে অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা: আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা এবং সেই জান্নাত লাভের জন্য প্রতিযোগিতা করো, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের মতো। এটি প্রস্তুত করা হয়েছে তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী।’ (সুরা আল-হাদিদ, আয়াত : ২১)
মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘আর যারা অগ্রগামী, তারাই তো অগ্রগামী। তারাই আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে নেয়ামতে ভরা জান্নাতে।’ (সুরা আল-ওয়াকিয়াহ, আয়াত : ১০-১৬)
পরিশেষে, জান্নাতুল ফিরদাউস অর্জনের জন্য করণীয় হলো, আল্লাহর একত্ববাদের ওপর ওপর অটল থাকা।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা। ফরজ ও নফল ইবাদতে যত্নবান হওয়া। কোরআন তিলাওয়াত, বোঝা ও সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। নিয়মিত তাওবা ও ইস্তিগফার করা। আল্লাহর কাছে সর্বদা ফিরদাউস প্রার্থনা করা। নেক আমলে প্রতিযোগিতা করা এবং মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।