শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে স্ত্রীর মর্যাদা ও অধিকার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২৬ এএম আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৫২ এএম
expand
ইসলামে স্ত্রীর মর্যাদা ও অধিকার

ইসলাম আগমনের পূর্বে আরব সমাজে নারীদের অবস্থান ছিল অত্যন্ত দুর্বিষহ। তাদের কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

একাধিকবার তালাক দেওয়ার পরও স্বামীরা অবলীলায় সম্পর্ক চালিয়ে যেত। নারীরা সমাজে সম্মানের কোনো আসনে আসীন ছিলেন না।

এই বর্বর প্রথার বিরুদ্ধে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন এবং নারীদের প্রতি সম্মান ও ন্যায়ের আচরণকে ইসলামের নৈতিক শিক্ষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের উদ্দেশে বলেন: তুমি যেভাবে আহার করো, স্ত্রীকেও তেমন খাওয়াবে; তুমি যেভাবে পোশাক পরো, তাকেও তেমন পরাবে। মুখে কখনো আঘাত করবে না, কোনো রকম অপমান বা দুর্ব্যবহার করবে না। — (আবু দাউদ: ২১৪২; মুসনাদে আহমাদ: ১৮৫০১)

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন: তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো। যদি তাদের কোনো আচরণ অপছন্দ হয়, তবে ধৈর্য ধরো। হয়তো সেই অপছন্দের মধ্যেই আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন। — (সুরা নিসা: ১৯)

বিদায় হজে নারীদের প্রতি দিকনির্দেশনা

বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে প্রিয় নবী (সা.) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন: নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর আমানত। আল্লাহর বাণী দ্বারা তোমরা তাদের হালাল করেছ। তারা যেন এমন কাউকে ঘরে প্রবেশ করতে না দেয়, যাকে তোমরা পছন্দ করো না। যদি তারা সীমা লঙ্ঘন করে, তাহলে হালকা মাত্রায় শাসন করবে—কখনোই নিষ্ঠুরভাবে নয়। তাদের প্রতি তোমাদের দায়িত্ব হলো উত্তম রিজিক ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। — (মুসলিম: ১২১৮)

স্ত্রীর অধিকার ও স্বামীর কর্তব্য

ইসলামী শরিয়ত স্বামীর ওপর স্ত্রীর জন্য কিছু নির্দিষ্ট অধিকার নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

মোহর আদায় করা, যথাযথ খাবার, পোশাক ও আবাসনের ব্যবস্থা, সদাচরণ ও সম্মানজনক ব্যবহার,

স্ত্রীকে মাহরাম নয় আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া, স্ত্রীকে মাহরাম নয় এমন আত্মীয়দের থেকে দুরে রাখা দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা, নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখা,

শারীরিক চাহিদা পূরণে মনোযোগী থাকা। — (সুরা নিসা: ১৯; আল-কাবায়ের, ইমাম জাহাবি, পৃষ্ঠা: ১৭৫)

স্ত্রীর মন-মানসিকতা ও আবেগের প্রতি যত্নশীলতা

ইসলামে স্ত্রীর আবেগ ও মানসিক অবস্থার প্রতিও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৈধতার সীমারেখায় স্ত্রীর মনে আনন্দ ও প্রশান্তি এনে দেওয়া স্বামীর দায়িত্ব।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:তীর চালনা, ঘোড়া দৌড়ানো ও স্বামী-স্ত্রীর রসিকতা—এসব বৈধ বিনোদন। — (তিরমিজি: ১৬৩৭)

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) তাকে আড়াল করে দাঁড় করিয়ে রাখেন যাতে তিনি হাবশিদের খেলাধুলা দেখতে পারেন। আয়েশা (রা.) বলেন, "যতক্ষণ আমার দেখার আগ্রহ না মিটেছে, তিনি ততক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। — (বুখারি: ৫২৩৬)

সহনশীলতা ও দয়াপূর্ণ আচরণ

দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য, মতবিরোধ ও ক্ষণিকের রাগ-অনুরাগ থাকতেই পারে। কিন্তু ইসলাম পুরুষদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে স্ত্রীর প্রতি সহনশীল হতে ও উত্তম আচরণ বজায় রাখতে।

রাসুল (সা.) বলেন: নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করো। নারী জাতি পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি। সবচেয়ে বাঁকা হলো ওপরের হাড়। সোজা করতে গেলে ভেঙে যাবে, তাই তাকে সহানুভূতির সঙ্গে গ্রহণ করো। — (বুখারি: ৫১৮৬)

আরও বলেন: কোনো মুমিন পুরুষ তার স্ত্রীকে ঘৃণা করবে না। যদি কোনো একটি দিক অপছন্দ হয়, তবে অন্য দিক ভালো লাগবে। — (মুসলিম: ১৪৬)

পরিবার একটি দায়িত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পরিবার প্রধান হিসেবে স্বামীর ওপর স্ত্রী ও সন্তানের ন্যায্য অধিকার আদায় করার দায়িত্ব অর্পিত।

হাদিসে এসেছে: তোমরা সবাই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। শাসক তার প্রজাদের নিয়ে, আর পুরুষ তার পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। — (বুখারি: ৮৯৩)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং তা বাস্তবায়নের তৌফিক দান করুন।

লেখক: ইমাম ও খতিব

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন