

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দিন যত গড়াচ্ছে, `একাধিক বিয়ে‘ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ততই বাড়ছে। ইসলামের নাম ভাঙিয়ে এটাকে দ্বিধাহীন `সুন্নত‘ বলে প্রচার করছেন একটা সুবিধাবাদী চক্র। তাদের দাবি, পবিত্র কোরআনে যেহেতু স্পষ্ট ভাষায় পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাই এতে কোনো বাধা নেই বা এটা নিন্দনীয় কিছু নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো আসলেই কি ইসলাম এমন বাধাহীন অনুমতি দেয় একাধিক বিয়ের? নাকি এ ক্ষেত্রেও বেধে দেওয়া হয়েছে শরিয়তের সুনির্দিষ্ট বিধি? এ নিয়ে আলোচনা করেছেন জনপ্রিয় আলেম ও ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
চলতি বছরের ৯ মে নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ‘একাধিক বিয়ে করে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারবেন?’ শিরোনামে একটি আলোচনা আপলোড করেছেন নন্দিত এই স্কলার। এনপিবি নিউজের পাঠকদের জন্য এখানে সে আলোচনার সারাংশ তুলে ধরা হলো।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে অনুমোদন দেওয়া হলেও, সেইসঙ্গে জুড়ে দিয়েছে সমতা রক্ষার শর্ত।
তিনি জানান, সকল স্ত্রীদের মাঝে সমতা রক্ষা করতে হবে-
প্রথমত, স্ত্রীদের ভরণপোষণ করার শক্তি ও সামর্থ্য থাকতে হবে, সার্বিকভাবে। দ্বিতীয়ত, শুধু সামর্থ্য থাকলেই হবে না, ইনসাফ করার সামর্থ্যও থাকতে হবে।
আল্লাহ বলেছেন, যার এই আশঙ্কা হয় যে একাধিক স্ত্রী হয়ে গেলে একজনের প্রতি ঝুঁকে যাবে, আরেকজনের খোঁজ নেবে না, আরেকজনের প্রতি বৈষম্য হয়ে যাবে, জুলুম হয়ে যাবে, ভরণপোষণ দিতে গিয়ে একজনকে বেশি দেবে আরেকজনকে দেবে না, তাহলে তার জন্য একটি বিয়েই যথেষ্ট। একটির বেশি করা তার জন্য জায়েজ নয়। এটাই হলো মৌলিক কথা। (সুরা নিসা, আয়াত: ০৩)
বক্তব্যে তিনি বলেন, দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে হাস্যকর ও বিতর্কিত প্রমাণ করার জন্য আমাদের অনেকের অপরিপক্ব আচার-আচরণ ও ভূমিকার যেমন দায় আছে, তেমনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে সমাজে হেয় করার একটা অপচেষ্টাও চলছে। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে কিছু মানুষ বিভিন্নভাবে এই কাজ করে যাচ্ছে, এটা আমরা জানি।
শায়খ আরও জানান, আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগের বাংলাদেশের বাস্তবতা দেখলে দেখা যায়, গ্রামে-গঞ্জে-শহরে একাধিক বিয়ের ঘটনা অহরহ হয়েছে। অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, দুনিয়াদার মানুষ, সাধারণ শিক্ষিত মানুষজনের মধ্যে এটা ব্যাপকভাবে ছিল। সেটা নিয়ে সমাজে কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। কিন্তু এখন একাধিক বিয়ে করে এক স্ত্রীকে নিয়ে পড়ে থাকা, আরেকজনের খোঁজখবর না নেওয়- এরকম বৈষম্যমূলক অনাচার যেমন হচ্ছে, তেমনি এটাকে আরও রঙ চড়িয়ে তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করার একটা অপচেষ্টাও আছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অনেক সাধারণ মুসলমান এই প্রপাগান্ডায় পা দিয়ে ফেলেন।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে, আল্লাহর কাছে শরিয়তকে সঠিকভাবে অনুধাবনের তাওফিক কামনা করেন তিনি। সেইসঙ্গে, একাধিক বিয়েকে ছেলেখেলা, তামাশা বা মনের খায়েশ পূরণের অস্ত্রে পরিণত করে দ্বীনকে, দ্বীনের বিধানকে, শরিয়তের বিধানকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করা যাবে না বলেও সর্বশ্রেণীর মুসলিমদের সতর্ক করেন।