

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনের ১০৩ তম সূরা হলো সূরা আল-আসর। মাত্র তিনটি আয়াতবিশিষ্ট এই ছোট্ট সূরাটিই ধারণ করে মানুষের জীবনের সাফল্য ও মুক্তির পূর্ণ দিকনির্দেশনা।
আল্লাহ তায়ালা এখানে সময়ের কসম খেয়ে ঘোষণা করেছেন-মানুষ প্রকৃতপক্ষে ক্ষতির মধ্যে রয়েছে, যদি না তারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের এবং ধৈর্যের উপদেশ দেয়।
সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ বলে অধিকাংশ তাফসিরকারকরা একমত। এতে সময়ের মূল্য, জীবনের উদ্দেশ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, এই সূরাটি কুরআনের সারাংশ বা সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
মানবজীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব আল্লাহর কাছে রয়েছে, তাই সময়কে অবহেলা করা মানে ক্ষতির পথে ধাবিত হওয়া।
তাফসিরবিদরা বলেন, সূরার প্রথম আয়াতে আল্লাহ সময়ের শপথ করেছেন....
‘ওয়াল আছর’ — অর্থাৎ, সময়ের কসম। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, সময় হলো আল্লাহর সৃষ্টি, যা মানুষের কর্ম ও ভাগ্যের সাক্ষী।
পরবর্তী আয়াতে বলা হয়,
‘নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে।’ এতে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে-যে জীবন আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী চলে না, সেটি ব্যর্থ।
শেষ আয়াতে চারটি শর্তে মুক্তির কথা বলা হয়েছে:
ইসলামী চিন্তাবিদ ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, মানবজাতির হিদায়াতের জন্য যদি কেবল এই সূরাটি নাযিল হতো, তবুও তা যথেষ্ট ছিল।
আজকের সমাজে যখন সময়ের অপচয়, অনৈতিকতা ও অধৈর্যতা বেড়ে চলেছে, তখন সূরা আল-আসরের বার্তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। এই সূরা স্মরণ করিয়ে দেয়-সফল হতে হলে কেবল বিশ্বাস নয়, সেই বিশ্বাসের আলোকে সৎকর্ম ও ধৈর্যের চর্চা অপরিহার্য।
সূরা আল-আসর (আছর):
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ وَالْعَصْرِ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
অর্থ:
সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে, তবে তারা নয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।
মন্তব্য করুন
