

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মক্কাভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সাবেক মহাসচিব ও সৌদি আরবের উপদেষ্টা পরিষদের (শূরা কাউন্সিল) সাবেক উপ-চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ বিন উমর নাসিফ আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে সৌদি আরবের জেদ্দায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিকেলে আসর নামাজের পর আল-জুফালি মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ড. নাসিফ ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা, দাওয়াত এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ছিলেন। ইসলাম ও মুসলিম সমাজের সেবায় অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯১ সালে বাদশাহ ফয়সাল পুরস্কার লাভ করেন, যা মুসলিম বিশ্বের নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত।
১৯৩৯ সালে সৌদি আরবের জেদ্দায় জন্মগ্রহণ করা ড. নাসিফ ১৯৬৪ সালে কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
এরপর তিনি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ও ভাইস-প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হন।
১৯৮৩ সালে ড. নাসিফ মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পান এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে সংস্থাটি দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৯৩ সালে তিনি সৌদি আরবের শূরা কাউন্সিলের উপ-চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
তাঁর অবদানের পরিধি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ছিল। তিনি ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদের ভাইস-প্রেসিডেন্ট, এবং ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার বহু ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।
বাংলাদেশের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি একাধিকবার চট্টগ্রামের জামেয়া দারুল মা‘আরিফ আল-ইসলামিয়া পরিদর্শন করেন এবং সেখানে পাঠদানও করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (রহ.)-এর সঙ্গে তাঁর ছিল বিশেষ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
তথ্যসূত্র : আরব নিউজ ও কিং ফয়সাল প্রাইজ ওয়েবসাইট
মন্তব্য করুন
