

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র কাবা শরিফের গায়ে ব্যবহৃত কালো আবরণ, যা ‘কিসওয়াহ’ নামে পরিচিত, অত্যন্ত যত্ন ও নিখুঁত কারুকাজের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। খাঁটি রেশম, রুপা ও সোনার প্রলেপযুক্ত সুতা ব্যবহার করে তৈরি এই কিসওয়াহ প্রস্তুতের পুরো প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
কিসওয়াহ তৈরির সাত ধাপ:
১. পানি প্রস্তুত ও লবণমুক্তকরণ প্রথমে কাঁচা রেশম ধোয়া ও রং করার জন্য বিশেষভাবে পরিশোধিত এবং লবণমুক্ত পানি প্রস্তুত করা হয়।
২. রেশম ধোয়া ও রং করা রেশম থেকে প্রাকৃতিক মোম অপসারণের পর তা নির্দিষ্ট রঙে রঞ্জিত করা হয়। কাবার বাইরের আবরণের জন্য কালো এবং ভেতরের অংশ ও বিশেষ স্থানের জন্য সবুজ রং ব্যবহার করা হয়।
৩. যান্ত্রিক বয়ন রঞ্জিত রেশমের সুতা আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে বোনা হয় এবং কিসওয়াহ তৈরির উপযোগী ভারী কাপড়ে রূপান্তর করা হয়।
৪. নকশা ও লেখার মুদ্রণ কুরআনের আয়াত ও অলংকরণমূলক নকশা কাপড়ের ওপর নিখুঁতভাবে স্থানান্তরের জন্য বিশেষ সিল্ক-স্ক্রিন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
৫. কাপড় সংযোজন ও সেলাই বিভিন্ন অংশ একত্র করে কিসওয়াহর মূল কাঠামো প্রস্তুত করা হয় এবং সূচিকর্মের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়।
৬. স্বর্ণ ও রুপার সূচিকর্ম রুপার সুতা এবং সোনার প্রলেপযুক্ত রুপার তার দিয়ে কুরআনের আয়াত ও নকশা সূচিকর্ম করা হয়। এর নিচে তুলার প্যাডিং ব্যবহার করে উঁচু ও ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করা হয়।
৭. গুণগত মান যাচাই প্রস্তুত হওয়ার পর কিসওয়াহর প্রতিটি অংশ কঠোর মানদণ্ডে পরীক্ষা করা হয়, যাতে উপকরণ ও কারুকাজের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা যায়।
যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়
কিসওয়াহ তৈরিতে প্রধানত খাঁটি রেশম, রুপার সুতা, সোনার প্রলেপযুক্ত রুপার তার এবং তুলার প্যাডিং ব্যবহার করা হয়।
ইসলামি নববর্ষের প্রথম মাস মহররমের প্রথম দিনে প্রতি বছর পবিত্র কাবা শরিফে নতুন কিসওয়াহ পরানো হয়। শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্য আজও সৌদি আরবে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়।