

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে মৃত্যুর পর কাফন ও জানাজার ব্যবস্থার নির্দিষ্ট অনুশাসন আছে। বিশেষ পরিস্থিতি হলো, যদি কোনো ব্যক্তি ইহরাম লাগানো অবস্থায় মারা যান; তখন তাকে ইহরামের কাপড়েই কাফন দেওয়া যায় এবং ঐ বিশেষ অবস্থার জন্য কয়েকটি নিয়ম আরোপিত থাকে। ধর্মীয় সূত্র ও ঐতিহ্য অনুসারে এসব বিধি কী -সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
ইসলামি ঐতিহ্যে যদি কেউ ইহরামের (হজ বা ওমরাহয়ের ইহরাম) কাপড় পরে মারা যান, তাহলে তাকে সেই ইহরামের কাপড়েই কাফন দেয়া যায়। এতে আইনগত বা ধর্মীয় কোনো বিধানগত প্রতিবন্ধকতা নেই-অর্থাৎ ইচ্ছা করলে ইহরামের কাপড়ই ব্যবহার করা যাবে।
সাধারণত জানাজার সময় মৃত ব্যক্তির মুখ ঢেকে রাখা হয়; অনেকে মুখ ঢেকে রাখার জন্য কাপড় বা বালিশ ব্যবহার করেন। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত একটি অনুশাসন আছে যে মাথা ও মুখ খোলা রাখা হয়। ঐতিহাসিক হাদীসে বর্ণিত এক ঘটনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীকে ইহরামের কাপড়েই কাফন দিতে এবং তার মাথা-মুখ ঢাকা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, এমন বিশ্বাস আছে যে তা কিয়ামতের দিন বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পুনরুত্থান হবে।
ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে সুগন্ধি প্রয়োগ বা ইহারামভঙ্গকারী অন্য আচরণ নিষিদ্ধ। একইভাবে ইহরামে মৃত ব্যক্তির চুলে বা শরীরে সুগন্ধি দেওয়ার বিষয়েও প্রচলিত বিধিনিষেধ রয়েছে, স্নেহ বা সম্মানের অনুষঙ্গে হলেও সুগন্ধি ব্যবহার করা অনুচিত বলে বিবেচিত হতে পারে।
যে কোনো মৃতদেহের জানাজা ও দাফন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সাধারণভাবে সমাজের চলমান রীতি ও স্থানীয় শরিয়া-অনুশাসনের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।
মৃত ব্যক্তির সম্মান ৰক্ষার জন্য গৃহীত প্রচলিত ব্যবস্থা যেমন মুখ বন্ধ করা, চিবুকের নিচে তোয়ালে বা বালিশ রাখা ইত্যাদি বিস্তৃতভাবে দেখা যায় এবং তা অনেক ভূমিতে ধর্মীয় অনুশাসনের অংশ হিসেবে চলে।
মন্তব্য করুন
