

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্য এশিয়ার কাজাখস্তানের মাংগিস্তাউ অঞ্চলে অবস্থিত বেকেত-আতা ভূগর্ভস্থ মসজিদ এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থাপনা।
উস্টিউর্ট প্ল্যাটোরের ঢালে পাথর খোদাই করে নির্মিত এই মসজিদটি দেশটির অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং বিশ্বাস, ইতিহাস ও কিংবদন্তির মেলবন্ধন।
মাংগিস্তাউয়ের কারাকিয়ান জেলার ওগল্যান্ডি এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদকে অনেকে “খোদাই করা মসজিদ” নামেও ডেকে থাকেন। স্থানীয় কাহিনিতে বলা হয়, ১৮শ শতকে সুফি সাধক বেকেত আতা নিজ হাতে এই মসজিদ নির্মাণ করেন এবং জীবনের শেষ দিনগুলো এখানেই অতিবাহিত করেন। তিনি ছিলেন ইসলাম প্রচার ও সুফিবাদের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা।
পাথরের মধ্যে খোদাই করা এই মসজিদে রয়েছে চারটি কক্ষ। এর একটিতে বেকেত আটার সমাধি, আরেকটি কক্ষ নারীদের নামাজের জন্য নির্ধারিত। তৃতীয় কক্ষে সংরক্ষিত রয়েছে সাধকের ব্যবহৃত কিছু জিনিসপত্র, আর শেষটি মূল নামাজের স্থান। প্রতিটি ঘরই প্রাচীন শিলালিপি ও সুচারু স্থাপত্যশৈলীতে সজ্জিত।
মসজিদে নামতে হয় পাহাড়ি ঢালে খোদাই করা সরু পথ ও পাথরের সিঁড়ি বেয়ে। নিচের কক্ষগুলোর ছাদের উচ্চতা গড়ে ২.৭ থেকে ৩.৫ মিটার। এখানকার পরিবেশে একধরনের গম্ভীর নীরবতা ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি বিরাজ করে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মসজিদে প্রবেশ ও প্রস্থানকালে পিছন ফিরে বের হওয়া উচিত—এটি সম্মান ও ভক্তির প্রতীক।
বেকেত-আতা মসজিদের আশপাশে বর্তমানে গড়ে উঠেছে ছোট গেস্টহাউস, বিশ্রামাগার ও মুসাফিরখানা, যেখানে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা অবস্থান করেন।
১৯৬০-এর দশকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মসজিদটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে কাজাখস্তান সরকার একে জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। আকতাউ শহর থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই মসজিদে পৌঁছাতে মরুপ্রান্তর ও দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়-৪×৪ গাড়ি ছাড়া যাত্রা প্রায় অসম্ভব।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম, ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীরা আজও এই মসজিদ দেখতে আসেন। প্রকৃতির প্রতিকূলতা ও সময়ের ক্ষয় সত্ত্বেও বেকেত-আতা মসজিদ আজও দাঁড়িয়ে আছে আধ্যাত্মিকতা ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক হয়ে।
সূত্র: কাজাখস্তান কালচারাল হেরিটেজ সেন্টার, আনাদোলু এজেন্সি, দ্য অ্যাস্টানা টাইমস।
মন্তব্য করুন
