বুধবার
০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের পূর্বে পুরুষদের পর্দার নির্দেশ নিয়ে যা বলছে ইসলাম

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
পুরুষের চোখের পর্দা। ছবি : এআই জেনারেটেড
expand
পুরুষের চোখের পর্দা। ছবি : এআই জেনারেটেড

ইসলামী শরিয়তে পর্দা একটি ফরজ বিধান, যা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। তবে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকেও এটি স্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ তাআলা নারীদের পূর্বে পুরুষদের পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন। অবশ্য লিঙ্গভেদে এই পর্দার ধরনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে মূল পর্দা হলো দৃষ্টির সংযম ও চরিত্র রক্ষা, আর নারীদের জন্য এর পাশাপাশি নিজেদের বাহ্যিক সৌন্দর্য ঢেকে রাখাও আবশ্যক।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা পুরুষদের উদ্দেশ করে বলেন:

‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। ...হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’। (সূরা: নুর, আয়াত: ৩০, ৩১)

এই নির্দেশনা প্রমাণ করে যে, কোনো গায়রে মাহরাম (বিবাহবহির্ভূত) নারীর দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকানো পুরুষের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। অনিচ্ছাকৃতভাবে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে গেলে তা ক্ষমার যোগ্য, কিন্তু দৃষ্টি না সরিয়ে বারবার তাকানো বড় গুনাহ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) আলী (রা.)-কে সতর্ক করে বলেন:

"হে আলী! দৃষ্টির পর দৃষ্টি ফেলো না। অনিচ্ছাকৃত যে দৃষ্টি পড়ে এর জন্য তুমি ক্ষমা পাবে। কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টির জন্য ক্ষমা পাবে না।" (সুনানে আবু দাউদ: ১/২৯২)

লক্ষণীয় যে, চোখের এই অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিকে ইসলামের পরিভাষায় আত্মিক ধ্বংসের মূল কারণ বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন:

"২ চোখ জিনা করে, চোখের জিনা হলো হারাম দৃষ্টিপাত।" (সহিহ বুখারি: ৬২৪৩)

প্রকৃতপক্ষে, চোখের কুদৃষ্টি হলো অন্তরে কুপ্রবৃত্তি জাগিয়ে তোলার শয়তানি ফাঁদ। এ প্রসঙ্গে একটি হাদিসে কুদসিতে নবীজি (সা.) আল্লাহ তাআলার বাণী বর্ণনা করেছেন:

"অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টি ইবলিসের বিষাক্ত বাণ বিশেষ, যে আমার ভয়ে তা ছেড়ে দেবে, আমি তাকে এমন ঈমান দান করবো যার সুমিষ্ট স্বাদ সে অন্তরে অনুভব করবে।" (মুসতাদরাকে হাকেম: ৪/৩১৩)

অতএব, পুরুষের চোখের পর্দা কেবল একটি সাধারণ নৈতিকতা নয়, বরং ঈমানি সুরক্ষাকবচ। শয়তানের এই বিষাক্ত বাণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে না পারলে মানুষ ক্রমশ বড় ও ধ্বংসাত্মক গুনাহের দিকে ধাবিত হয়। তাই আত্মিক পবিত্রতা ও ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে হলে পুরুষের দৃষ্টির হেফাজত করা অপরিহার্য।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন