

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে নরসুন্দা নদীর চরে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ—যা এখন শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লাখো মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক।
শত বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ এখানে আসে মনোবাসনা পূরণের আশায়। কেউ দান করে নগদ টাকা, আবার কেউ দেয় স্বর্ণ, রূপা কিংবা গবাদিপশু-পাখি।
ইতিহাস ও জনশ্রুতি
স্থানীয়দের বিশ্বাস, বহু বছর আগে এই স্থানে এক ধার্মিক সাধক বসবাস করতেন। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন মসনদে আলা বীর ঈসা খাঁর বংশধর—জিলকদর খান নামে এক পরহেজগার ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুর পর স্থানীয়রা তাঁর উপাসনাস্থলেই মসজিদ গড়ে তোলেন। এরপর থেকেই আশ্চর্যভাবে মানুষের আগমন বাড়তে থাকে। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মানত নিয়ে আসতে শুরু করে। সময়ের ধারায় সেই জায়গাই পরিণত হয়েছে আজকের বিখ্যাত পাগলা মসজিদে।
দানবাক্সে কোটি টাকার সঞ্চয়
প্রতি তিন মাস অন্তর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। প্রতিবারই সেখানে মেলে কোটি কোটি টাকার দেশি-বিদেশি মুদ্রা, গহনা ও চিঠিপত্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পরিমাণ আরও বেড়েছে—
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পাওয়া যায় প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা,
২০২৪ সালের এপ্রিলে পাওয়া যায় নতুন রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা,
আর ২০২৫ সালের আগস্টে মেলে সর্বোচ্চ ১২ কোটি টাকারও বেশি।
সব মিলিয়ে বর্তমানে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ ১০০ কোটিরও বেশি। এই টাকা গণনায় অংশ নেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, ব্যাংককর্মী এবং স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সমাজসেবা
দান থেকে পাওয়া অর্থ পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি। এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার রক্ষণাবেক্ষণে। পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা, অসহায় মানুষ, দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষদেরও সাহায্য করা হয়।
স্থাপত্য ও উন্নয়ন পরিকল্পনা
পাগলা মসজিদ তার অনন্য স্থাপত্যশৈলীর জন্যও পরিচিত। গম্বুজ, উঁচু মিনার ও প্রশস্ত নামাজঘরসহ পুরো স্থাপনাটি আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী নকশার সংমিশ্রণ। এখানে একসঙ্গে হাজারো মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে, যা সম্পন্ন হলে একসঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন।
বিশ্বাসের মসজিদ
শুধু মুসলিম নয়, বিভিন্ন ধর্মের মানুষও এখানে আসে প্রার্থনা ও মানতের উদ্দেশ্যে। কারও বিশ্বাস—এখানে দান করলে রোগমুক্তি মেলে, কারও মতে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। তাই শত বছরের ঐতিহ্য ধরে প্রতিদিনই নতুন করে মানুষের ঢল নামে পাগলা মসজিদে।
মন্তব্য করুন
