শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীজির য়ে  ৪টি বিষয়ে সতর্কবার্তা করছেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:২৯ পিএম
ইসলাম
expand
ইসলাম

নবুওয়াতের আলো পৃথিবীকে জাহিলিয়াতের অন্ধকার থেকে মুক্তি দিয়েছে। তবে মানুষ প্রায়ই পুরনো প্রথার প্রতি আকৃষ্ট হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছিলেন, উম্মতের মধ্যেও কিছু জাহিলী রীতি ফেরত আসবে।

হাদিসে চারটি মূল কু-প্রথা উল্লেখ রয়েছে

  • বংশগৌরব-মানুষকে তার বংশ বা গোত্রের মাধ্যমে গর্বিত মনে করানো।
  • অন্যের বংশকে হেয় করা-কাউকে নীচ বা অমূল্য বংশের বলে অবজ্ঞা করা।
  • নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করা-প্রাকৃতিক শক্তিকে আল্লাহর পরিবর্তে প্রাধান্য দেওয়া।
  • মৃতের জন্য অতিরিক্ত বিলাপ ও কান্নাকাটি-শোককে অতিমাত্রায় নাটকীয়ভাবে প্রকাশ করা।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

"‏ أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لاَ يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَخْرُ فِي الأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِي الأَنْسَابِ وَالاِسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ ‏"‏ النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانٍ وَدِرْعٌ مِنْ جَرَبٍ ‏"‏ ‏.‏

‘আমার উন্মাতের মধ্যে জাহিলী যুগের চারটি কু-প্রথা রয়ে গেছে যা লোকেরা পরিত্যাগ করতে চাইবে না। (১) বংশের গৌরব, (২) অন্যকে বংশের খোটা দেয়া, (৩) নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা, (৪) মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা। তিনি আরও বলেন, বিলাপকারী যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করে তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে এভাবে উঠানো হবে যে, তার গায়ে আলকাতরার (চাদর) খসখসে চামড়ার ওড়না থাকবে। (সহিহ ‍মুসলিম, হাদিস : ৯৩৪)

মাহফুজ আলম বলেছিলেন, এই চারটি প্রথা কেবল প্রাচীন আরব সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং প্রতিটি যুগেই নতুন রূপে প্রতিফলিত হয়।

  • বংশগৌরব:

আরব সমাজে বংশগৌরব ছিল অহংকারের মূল কেন্দ্র। ইসলাম স্পষ্ট করে দেয় যে মানুষের মর্যাদা বংশে নয়, তাকওয়ায়। আজও “আমরা অভিজাত পরিবার” বা “আমরা মূলধারার মানুষ” ধরনের কথাবার্তা জাহিলী মানসিকতার অবশিষ্টাংশ।

  • অন্যের বংশকে হেয় করা:

অপরকে ছোট করা কেবল ভাষার অপরাধ নয়; এটি হৃদয়ের অহংকারের প্রকাশ। ইসলাম সবার সমান মর্যাদা দেয় এবং কারও বংশের কারণে তাকে হেয় করার অনুমতি দেয় না।

  • নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা:

জাহিলী যুগে মানুষ বিশ্বাস করত যে নক্ষত্র ও গ্রহ বৃষ্টির কারণ। আধুনিক যুগেও এই ধারণা বিভিন্ন নামে ফিরে আসে, যেমন ‘প্রকৃতির ইচ্ছা’। ইসলাম শিক্ষা দেয়, সবকিছুর নিয়ন্ত্রক আল্লাহই।

  • মৃতের জন্য অতিরিক্ত বিলাপ ও কান্নাকাটি:

ইসলাম শোককে নিষিদ্ধ করেনি, বরং সংযতভাবে শোক প্রকাশের শিক্ষা দেয়। অতিরিক্ত বিলাপ বা নাটকীয় কান্না জাহিলী প্রথার অবশিষ্ট।

মহানবী (সা.)-এর সতর্কবার্তা আজও প্রাসঙ্গিক: জাহিলী যুগের অহংকার ও কু-প্রথা পরিত্যাগ করতে হবে। আধুনিক সমাজে বংশগৌরব, অন্যকে হেয় করা, প্রাকৃতিক শক্তিকে আল্লাহর স্থান দেওয়া বা মৃতের শোককে নাটকীয় রূপে প্রকাশ-সবই একই আত্মাভিমান ও অজ্ঞতার প্রতিফলন।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই উম্মতের অংশ হওয়া, যারা জাহিলী চেতনা থেকে মুক্ত এবং আল্লাহর আনুগত্যে নিবেদিত। মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে মানবতার জন্য সত্যিকারের সুষ্ঠু ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনের চেষ্টা করা আমাদের দায়িত্ব।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন