শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির হাটে যেভাবে চিনবেন সুস্থ পশু

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
কোরবানির পশু। ছবি : সংগৃহীত
expand
কোরবানির পশু। ছবি : সংগৃহীত

কুরবানির ঈদের আগে বা হাটে পশু অসুস্থ হওয়া ও মারা যাওয়ার প্রধান কারণ হলো সেগুলোর পরিপূর্ণ সুস্থ না থাকা, আর অসুস্থ পশু কোরবানি দিলে নানারকম রোগব্যাধি ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে, তাই হাটে গিয়ে একটি সম্পূর্ণ সুস্থ পশু চিনে ও নির্ধারণ করে কেনা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

যেভাবে আমরা সুস্থ পশু শনাক্ত করতে পারি-

১. আচরণ ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ: সুস্থ পশু সাধারণত সচল, চঞ্চল ও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে এবং নিয়মিত কান ও লেজ নাড়ায়। এর চোখ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল, নাক হালকা ভেজা এবং শরীরের লোম মসৃণ ও চকচকে থাকে।

২. ক্ষত ও খাবারের আগ্রহ পরীক্ষা: পশুর শরীরে কোনো ধরনের ঘা, ক্ষত, চুলকানি বা পোকা থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি পশুটির খাবারের প্রতি স্বাভাবিক আগ্রহ রয়েছে কি না তা খেয়াল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩. জাবর কাটা পর্যবেক্ষণ: গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত জাবর কাটা সুস্থতার একটি বড় লক্ষণ। অসুস্থ পশু সাধারণত কম জাবর কাটে বা একেবারেই কাটে না, তাই কেনার সময় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তার এই আচরণ পর্যবেক্ষণ করা ভালো।

৪. কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশু সনাক্তকরণ: কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা পশুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে, চামড়া অতিরিক্ত টানটান ও চকচকে দেখায় এবং হাঁটাচলায় দুর্বলতা বা হাঁপানোর লক্ষণ থাকে। অনেক সময় এদের শরীরে ইনজেকশনের দাগও পাওয়া যায়।

কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা পশুর মাংসের স্বাস্থ্যঝুঁকি-

এ ধরনের পশুর মাংস দীর্ঘদিন ধরে খেলে মানুষের শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কিডনি ও লিভারের সমস্যা, হজমের জটিলতা এবং অ্যালার্জির মতো নানা রকম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ত্রুটিপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থার ঝুঁকি-

ট্রাক বা নৌকায় অতিরিক্ত গাদাগাদি করে পশু পরিবহন করলে তাদের আঘাত, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা ও মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বাসের ডিকি বা ছোট বক্সে ছাগল-ভেড়া বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ পর্যাপ্ত বাতাস না পেয়ে পশু অসুস্থ হতে পারে, এমনকি মারাও যেতে পারে।

আবার, দীর্ঘ সময় হাটে দাঁড়িয়ে থাকলে পশুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এতে তারা ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয় এবং তাদের মাংসের গুণগত মানও হ্রাস পেতে পারে।

হাটে অসুস্থ পশুর প্রাথমিক যত্ন ও চিকিৎসা-

হাটে কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ভীড় ও রোদ থেকে সরিয়ে একটি শান্ত স্থানে নিয়ে যেতে হবে এবং পরিষ্কার পানি দিতে হবে। এই অবস্থায় নিজে থেকে কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে নিবন্ধিত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

. কুরবানির ঈদে সুস্থ পশু বাছাই করা এবং পশুর প্রতি মানবিক আচরণ বজায় রাখার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সামান্য সচেতনতা যেমন নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে পারে, তেমনই পশুর অপ্রয়োজনীয় কষ্ট ও ভোগান্তিও অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন