শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিম ছুড়লে আইন অনুযায়ী আপনার যে শাস্তি পেতে হতে পারে 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০৯:১২ পিএম আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

কেউ কাউকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়লে তা কেবল হঠকারী কিংবা মজার ঘটনা নয়। প্রাচীনকাল থেকে জনগণের ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং প্রতীকী প্রতিবাদের এক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এ ডিম ছোড়া। ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিম ছোড়ার মাধ্যমে সামাজিক অপমান এবং সাধারণ মানুষের অভিব্যক্তির এক বিশেষ ভাষা প্রকাশিত হয়।

ডিম ছোড়ার ইতিহাস

প্রাচীন গ্রিস ও রোমে জনসমক্ষে অপমান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শাসক, কর কর্মকর্তা বা সমাজবিরোধী ব্যক্তিদের অপছন্দ প্রকাশের জন্য কখনও পচা ফল, সবজি বা ডিম ছোড়া হতো। লক্ষ্য ছিল শারীরিক আঘাত নয়, বরং সামাজিক লজ্জা ও সম্মানহানি সৃষ্টি করা।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর এশিয়া মাইনরের কবি হিপোনাক্স উল্লেখ করেছেন যে, অপরাধী বা সমাজচ্যুত ব্যক্তির ওপর ডিম বা পচা খাবার ছোড়া হতো। এলিজাবেথান যুগে শেক্সপিয়রের অভিনয় অপছন্দ হলে দর্শকরা ডিম ছুঁড়তেন। ১৮৩০-এর দশকে জর্জ এলিয়টের ‘মিডলমার্চ’ উপন্যাসেও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ডিম ছোড়ার বর্ণনা আছে।

মধ্যযুগে ইউরোপে ‘চারিভারি’ নামে একটি গণ-উপহাসের প্রথা প্রচলিত ছিল। সমাজ যাকে অনৈতিক বা গ্রহণযোগ্য মনে করত না, তাদের বাড়ির সামনে জনতা হাঁড়ি-পাতিল বা ড্রাম বাজিয়ে বিকট শব্দ করত। প্রায়ই এই হট্টগোলের সময় পচা ডিমও ছোড়া হতো। অপরাধীদের ওপর পিলরিতে হাত-পা আটকে রাখার সময়ও সাধারণ মানুষ তাদের লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়তেন। এটি আধুনিক ‘এগিং’-এর প্রারম্ভিক রূপ।

আধুনিক যুগে রাজনৈতিক প্রতিবাদ

ডিম ছোড়া এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও একটি পরিচিত প্রতিবাদের মাধ্যম। ২০০১ সালে যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী জন প্রেসকট, ১৯৯০ সালে মার্গারেট থ্যাচার এবং ১৯৯২ সালে জন মেজর ডিম হামলার শিকার হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস ও কুইন কনসোর্ট ক্যামিলা বিভিন্ন বিক্ষোভে ডিমের লক্ষ্য হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৩ সালে আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের ওপরও ডিম হামলা ঘটেছে। এছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াতেও বিতর্কিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

ডিম কেন বেছে নেওয়া হয়?

ডিম মারধরের মতো গুরুতর সহিংসতা নয়। এটি আঘাত না দিলেও অপমানের প্রভাব রাখে। এছাড়া, ডিম সস্তা, সহজলভ্য এবং সামাজিকভাবে প্রতীকী বার্তা প্রকাশের জন্য কার্যকর। সমাজবিজ্ঞানীরা এটিকে ‘প্রতীকী সহিংসতা’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

বাংলাদেশে আইনগত দিক

বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী, ডিম ছোড়াকে বিভিন্ন ধারার আওতায় দণ্ডনীয় বিবেচনা করা যেতে পারে:

  • ধারা ৩৫২: অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা উসকানি ছাড়া আঘাত করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা পাঁচশ টাকা জরিমানা।
  • ধারা ৩৩৪–৩২৩: গুরুতর আঘাত ছাড়া স্বেচ্ছায় আঘাত করলে এক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা।
  • ধারা ৫০৪: প্রকাশ্য অপমান বা জনসমক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা।
  • ধারা ২৯০: পাবলিক নুইসেন্স, সর্বোচ্চ দুইশ টাকা জরিমানা।
  • ধারা ৪৯৯–৫০০: সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হলে মানহানি মামলা, সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড।
google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন