শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদনজর ও কালো জাদু থেকে বাঁচার আমল 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম
বদনজর ও কালো জাদু থেকে বাঁচার আমল 
expand
বদনজর ও কালো জাদু থেকে বাঁচার আমল 

জীবনের পথে এমন অনেক অদৃশ্য বিপদের সম্মুখীন হতে হয়, যা চিকিৎসা বা জাগতিক জ্ঞান দিয়ে সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো বদনজর (দৃষ্টির আঘাত) ও কালো জাদু। ইসলামে এই দুটিকেই বাস্তব ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হিংসা, ঈর্ষা কিংবা বিদ্বেষ থেকে মানুষের ওপর বদনজর লাগতে পারে-এ বিষয়টি নবী করিম (সা.)-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বদনজর লাগা সত্য।’ (আবু দাউদ : ৩৮৭৯)

অন্যদিকে জাদু করা বা এর মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি সাধন করা ইসলামি শরিয়তে গুরুতর গোনাহ। নবী করিম (সা.) নিজে জাদুকে ধ্বংসাত্মক কাজ হিসেবে সতর্ক করে নিষেধ করেছেন।

সহিহ বুখারির এক বর্ণনায় রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে দূরে থাকবে।’

সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সেগুলো কী?’

তিনি বলেন,

‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, জাদু করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, সুদ ভক্ষণ করা, এতিমের সম্পদ গ্রাস করা এবং সতী মুমিন নারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।’ (বুখারি : ২৫৭৮)

বদনজর ও জাদু থেকে সুরক্ষার উপায়

এক. উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি তিনবার নিচের দোয়াটি পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। দোয়াটি হলো, بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্‌মিহি শাইয়্যিন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া-হুয়াস-সামিউল আলিম।

অর্থ : আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি। জমিন ও আসমানের কোনোকিছুই যাঁর নামের বরকতে ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (তিরমিজি : ৩৩৮৮)

দুই . সকাল সন্ধ্যার আরেকটি দোয়া أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিনশাররি মা খালাকা।

অর্থ : আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসিলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এই দোয়াটি সন্ধ্যার সময় পড়লে ওই রাতে কোনো সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদি কষ্ট দিতে পারে না। (তিরমিজি : ৩৪৩৭)

তিন . জাদু দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে জিবরাইল আলাইহিস সালাম নবীজিকে (সা.) এই দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়েছিলেন। بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইয়্যুজিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হা-সিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।

অর্থ : আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি, সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। (মুসলিম : ২১৮৬, তিরমিজি : ৯৭২)

চার . সুরা ফালাক ও নাস এক্ষেত্রে অনেক বেশি উপকারী। সকাল-সন্ধ্যা সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস প্রতিটি তিন বার করে পড়ার পরামর্শ দেন আলেমরা।

পাঁচ . সুরা ফাতেহার অপর নাম হলো সুরা শিফা অর্থাৎ আরোগ্য লাভের সুরা। এই সুরাও পড়া যেতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন