

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সূরা আল-বাকারা কুরআনের সবচেয়ে দীর্ঘ সূরা, যার শেষ দুই আয়াত (২৮৫ ও ২৮৬) বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ আয়াত দুটিতে ঈমানদারদের বিশ্বাস, আমল ও দোয়া সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
আয়াতগুলো হলো— “আমানার রাসুলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনূন…” দিয়ে শুরু হয়ে “আনসুরনা আলাল কওমিল কাফিরীন।” দিয়ে শেষ হয়েছে।
এই দুই আয়াতের ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিসে বর্ণনা এসেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)।
আরেক বর্ণনায় এসেছে, এই দুই আয়াত আল্লাহ তাঁর আর্শের নিচে সংরক্ষণ করেছিলেন এবং সরাসরি নবী করিম (সা.) –কে দান করেছিলেন। নিয়মিত এই আয়াতগুলো পাঠ করলে আল্লাহর সুরক্ষা, রহমত ও সাহায্য পাওয়া যায়, দুনিয়ার বিপদ থেকে নিরাপত্তা মেলে এবং আখিরাতেও মুক্তি লাভের আশা করা যায়।
আয়াত
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ (٢٨٥)
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ (٢٨٦)
উচ্চারণ
আমানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রব্বিহি ওয়াল মু’মিনূন, কুল্লুন আ’মানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রাসুলিহি, লা নুফাররিকু বায়না আহাদিম মির রাসুলিহি, ওয়া ক্বালূ সামি’না ওয়া আতাআনা গুফরানাকা রব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর (২৮৫)।
লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা, লাহা মা কাসাবাত, ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত, রব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসিনা আও আখতা’না, রব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাযিনা মিন ক্বাবলিনা, রব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মালা তাক্বাতা লানা বিহি, ওয়া’ফু আন্না, ওয়াগফির লানা, ওয়ারহামনা, আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরীন (২৮৬)।
বাংলা অর্থ
রাসূল (সা.) বিশ্বাস স্থাপন করেছেন তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা তাঁর প্রতি নাযিল করা হয়েছে, আর মুমিনরাও। সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূলদের প্রতি। তাঁরা বলে— “আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার ক্ষমা চাই; আর তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন।” (আয়াত ২৮৫)
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। প্রত্যেকের উপার্জন তারই জন্য এবং যা করবে তারই দায় সে বহন করবে। তারা বলে— “হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দিও না, যেমন তুমি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়েছিলে। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দিও না, আমাদের পাপ মোচন করো, আমাদের ক্ষমা করো, আমাদের প্রতি দয়া করো। তুমি আমাদের অভিভাবক, তাই কাফিরদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো।” (আয়াত ২৮৬)
মন্তব্য করুন