

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


“হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল” একটি দোয়া, যার অর্থ হলো— “আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক ও অভিভাবক।” এটি এমন একটি দোয়া, যা মূলত বিপদ, ভয়, শত্রুর হুমকি বা দুশ্চিন্তার সময়ে পাঠ করা হয়। এ বাক্যের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর উপর তার পূর্ণ আস্থা ও নির্ভরতা প্রকাশ করে।
কুরআনে এ দোয়ার গুরুত্ব উল্লেখ রয়েছে। সূরা আলে ইমরানের ১৭৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে, যখন সাহাবিদের শত্রুর ভয় দেখানো হয়েছিল, তারা তখন এ দোয়া পাঠ করেছিলেন— “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল।” এর ফলে তাদের ঈমান আরও শক্তিশালী হয়েছিল এবং আল্লাহ তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে গিয়েছিলেন।
এখান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, যে কোনো বিপদের সময় এ দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ বান্দার জন্য সাহায্য ও সুরক্ষা দান করেন।
হাদিসে এসেছে, নবী ইবরাহিম (আ.)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তিনিও এ দোয়া পাঠ করেছিলেন। তখন আল্লাহ আগুনকে শীতল ও শান্ত করে দিয়েছিলেন। আবার অন্য এক বর্ণনায় জানা যায়, মুসলমানরা যখন বড় ধরনের ভয় বা সমস্যায় পড়তেন, তখন হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁদের এ দোয়া পড়তে শিক্ষা দিতেন
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর বন্ধু হজরত ইবরাহিম (আ.)–কে যখন আগুনের বিশাল কুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তিনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিয়ে বলেছিলেন— “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল” অর্থাৎ “আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।” এই দোয়ার ফলে আল্লাহ তাঁর রহমতে সেই ভয়ঙ্কর আগুনকে শীতল ও শান্ত করে দেন, আর ইবরাহিম (আ.) নিরাপদে রক্ষা পান।
একই দোয়ার উল্লেখ পাওয়া যায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনেও। কুরআনে বর্ণিত আছে, যখন কাফিররা মুসলমানদের ভয় দেখিয়ে বলল— “শত্রুরা তোমাদের মোকাবিলার জন্য একত্র হয়েছে, তোমরা তাদের ভয় করো।” তখন সাহাবায়ে কেরাম ভীত না হয়ে বরং আরও দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন— “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।” ফলে তাঁদের ঈমান আরও শক্তিশালী হয় এবং আল্লাহর সাহায্য তাঁদের সঙ্গী হয় (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৭৩)।
সাহাবিদের জীবনে এ দোয়া অনেকবার কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। খন্দকের যুদ্ধের সময় যখন মুসলমানরা জানতে পারলেন প্রায় ১০ হাজার সৈন্য মদিনাকে ঘিরে ফেলেছে, তখনো তাঁরা নির্ভয়ে এ দোয়া পাঠ করেছিলেন— “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।” এর মাধ্যমে তাঁরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাঁদের সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকেও রক্ষা করেছিলেন (সহিহ বুখারি: হাদিস ৪৫৬৩–৪৫৬৪)।
তিরমিজি শরিফে আরও একটি হাদিস পাওয়া যায়, যেখানে বর্ণিত আছে— একদিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর সাহাবিদের উদ্দেশে বললেন: “আমি কীভাবে নিশ্চিন্ত থাকব, অথচ ইসরাফিল (আ.) শিঙ্গা মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি অপেক্ষা করছেন কখন আল্লাহর নির্দেশ আসবে আর তিনি শিঙ্গায় ফুঁ দেবেন।” এ কথা শুনে সাহাবিরা ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তখন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন: “তোমরা বলো— হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।” অর্থাৎ আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক (তিরমিজি: হাদিস ২৪৩১, ৩২৪৩)।
মন্তব্য করুন
