শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের অর্থ, উচ্চারণ ও ফজিলত

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:০০ পিএম
সুরা হাশর
expand
সুরা হাশর

সূরা হাশর পবিত্র কুরআনের ৫৯তম সূরা, যা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এতে মোট ২৪ আয়াত ও ৩টি রুকু রয়েছে।

সূরার শেষ তিন আয়াত (২২-২৪) বিশেষভাবে গুরুত্ববহ। এই আয়াতগুলোতে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ (আসবাউল হুসনা) ও তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করা হয়েছে।

সুরা হাশরের আয়াত ২২

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَـٰنُ الرَّحِيمُ

হুয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা হুয়া, ‘আলিমুল গ্বাইবি ওয়াশ শাহা-দাহ। হুয়ার রাহ্‌মানুর রাহীম।

তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। গায়েব ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞান রাখেন। তিনিই পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

সুরা হাশরের আয়াত ২৩

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ

হুয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা হুয়া, আল মালিকুল কুদ্দুসুস সালামুল মুমিনুল মুহাইমিনুল আজীযুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির। সুবহা-নাল্লাহি ‘আম্মা ইউশরিকূন।

তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তিনিই বাদশাহ, পবিত্র, নিরাপত্তাদাতা, বিশ্বাসের যোগানদাতা, তত্ত্বাবধায়ক, পরাক্রমশালী, পরাক্রান্ত ও গর্বিত। তারা যা শরিক করে, আল্লাহ তার ঊর্ধ্বে মহান।

সুরা হাশরের আয়াত ২৪

هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

হুয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রি-উল মুসাও্‌ভিরু, লাহুল আস্‌মা-উল হুসনা। ইউসাব্বিহু লাহু মা-ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ। ওয়া হুয়াল আজীযুল হাকীম।

তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী। সবচেয়ে সুন্দর নামসমূহ তাঁরই জন্য। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার জন্য আল্লাহ ৭০ হাজার ফেরেশতা নিয়োগ করবেন যারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দোয়া করবে। আবার যদি সে দিন বা রাতে মারা যায়, তবে শহীদের মর্যাদা নিয়ে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)।

আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে, হযরত মুহাম্মদ হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি ভোরবেলায় তিনবার ‘আউযু বিল্লাহিস সামী‘ইল আলীমি মিনাশ শাইতানির রজীম’ পড়ে সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার জন্য আল্লাহ ৭০ হাজার ফেরেশতা নিয়োগ করবেন। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকবে। আর সে যদি সেদিন মারা যায়, তবে শহীদের মর্যাদা পাবে।” (মুস্তাদরাক হাকিম)

এভাবে সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর রহমত ও সুরক্ষা লাভ হয়, দুনিয়ার কষ্ট ও আখিরাতের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এগুলো পাঠের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর মহান সত্তা ও গুণাবলিকে স্মরণ করে, যা ঈমানকে দৃঢ় করে এবং হৃদয়কে প্রশান্তি দেয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন