রবিবার
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ম তারাবির পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

৫ম রোজার তারাবি (৪র্থ রমজানের দিবাগত রাতে) সাধারণত পবিত্র কুরআনের সপ্তম পারা (সূরা মায়িদার ৮৩ নম্বর আয়াত থেকে সূরা আরাফের ১১ আয়াত পর্যন্ত) তেলাওয়াত করা হয়। এই অংশগুলোতে আল্লাহর বিধান, মানুষের সঙ্গে ইবলিসের দ্বন্দ্ব ও সতর্কবার্তা এবং সত্য পথ অনুসরণের নির্দেশসমূহ আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা আল-মায়িদা (৫:৮৩–১২০) — এই অংশে সত্য গ্রহণকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে। যারা কুরআনের বাণী শুনে সত্য উপলব্ধি করে তাদের হৃদয় নম্র হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাদের জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেন।

মুমিনদের জন্য হালাল-হারামের সীমা মানা, শপথের নিয়ম, মদ ও জুয়া থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাহেলি যুগের কুসংস্কার বাতিল করা হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিয়ামতের দিনের দৃশ্য বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে নবীদের জিজ্ঞাসা করা হবে এবং ঈসা (আ.) স্পষ্ট করবেন যে তিনি কখনো মানুষকে নিজের উপাসনা করতে বলেননি। শেষে ঘোষণা করা হয়েছে যে আসমান-জমিনের মালিকানা একমাত্র আল্লাহর।

সূরা আল-আনআম (৬:১–১৬৫) — এই সূরায় তাওহীদের শিক্ষা প্রধান বিষয়। আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সবকিছুর নিয়ন্ত্রক—এ কথা বারবার স্মরণ করানো হয়েছে।

মানুষ বিপদের সময় আল্লাহকে ডাকে কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় ভুলে যায়—এ আচরণের সমালোচনা করা হয়েছে। ইবরাহিম (আ.)-এর উদাহরণ দিয়ে দেখানো হয়েছে কিভাবে তিনি চিন্তা করে এক আল্লাহর সত্যে পৌঁছেছিলেন।

মুশরিকদের কুসংস্কার, মিথ্যা বিধান ও হারাম-হালাল নিজেরা বানানোর প্রবণতা নাকচ করা হয়েছে। হালাল খাদ্য, ন্যায়নীতি, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার, হত্যা ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শেষে বলা হয়েছে, ইসলামই সরল পথ এবং মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি; সবাইকে নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে।

সূরা আল-আরাফ (৭:১–১১) — কুরআন মানুষের জন্য সতর্কবার্তা ও উপদেশ হিসেবে নাজিল হয়েছে। মানুষকে আল্লাহর নির্দেশ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে এবং অতীতের ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর উদাহরণ স্মরণ করানো হয়েছে।

কিয়ামতের দিনে আমল ওজন করা হবে—যাদের নেক আমল বেশি তারা সফল হবে। আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে বসবাসের সুযোগ দিয়েছেন, তবুও মানুষ কম কৃতজ্ঞ। শেষে আদম (আ.)-এর সৃষ্টি এবং ফেরেশতাদের সিজদার নির্দেশের ঘটনা শুরু করা হয়েছে।

এই দেড় পারা থেকে (সুরা মায়েদার ৮৩নং আয়াত থেকে সুরা আরাফের ১১নং আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

যারা কাফের হয়েছে এবং আমার আয়াতসমুহকে মিথ্যা বলেছে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। [ সুরা মায়েদা-৮৬ ]

আল্লাহ তা'য়ালা যেসব বস্তু তোমাদেরকে দান করেছেন, তম্মধ্য থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু খাও এবং আল্লাহকে ভয় কর -যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী। [ সুরা মায়েদা-৮৮ ]

হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি ইত্যাদি এবং লটারীর তীর -এসব গর্হিত বিষয় ও শয়তানী কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। অতএব, এগুলো থেকে সম্পুর্ন দূরে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। [ সুরা মায়েদা-৯০ ]

তিনিই তোমাদেরকে মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের জীবনের জন্য একটি নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ করেছেন। তাছাড়া আরো একটি নির্দিষ্টকাল আল্লাহর কাছে নির্ধারিত আছে। তথাপি তোমরা সন্দেহ কর। [ সুরা আন’য়াম-২ ]

তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পুর্বে বহু দল ও সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি। যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করে দিয়েছি। অতঃপর আমি তাদেরকে পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে নতুন নতুন জাতি ও সম্প্রদায়সমূহ সৃষ্টি করেছি। [ সুরা আন’য়াম-৬ ]

তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ, মিথ্যা আরোপকারীদের পরিণাম কি হয়েছে? [ সুরা আন’য়াম-১১ ]

আপনি বলুন, আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হতে ভয় পাই, কেননা আমি একটি মহাদিবসের শাস্তিকে ভয় করি। [ সুরা আন’য়াম-১৫ ]

আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, অতঃপর যারা শিরক করেছিল, তাদের বলবঃ যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার বলে ধারণা করতে, তারা এখন কোথায়? [ সুরা আন’য়াম-২২ ]

আপনি যদি দেখেন, যখন তাদেরকে দোযখের উপর দাঁড় করানো হবে! তারা বলবেঃ কতই না ভাল হত, যদি আমরা পুনঃপ্রেরিত হতাম; তা হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা ঈমানদার হয়ে যেতাম। [ সুরা আন’য়াম-২৭ ]

এবং তারা ইতিপূর্বে যা গোপন করত, তা তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। যদি তারা পুনঃপ্রেরিত হয়, তবুও তাই করবে, যা তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী। [ সুরা আন’য়াম-২৮ ]

পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালের আবাস পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্টতর। তোমরা কি চিন্তা ভাবনা করবে না ? [ সুরা আন’য়াম-৩২ ]

যদি তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি পতিত হয় কিংবা তোমাদের কাছে কিয়ামত এসে যায়, তবে তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে যদি তোমরা সত্যবাদী হও। [ সুরা আন’য়াম-৪০ ]

বলুন, আল্লাহ যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন। তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে এগুলো ফিরিয়ে এনে দেবে? [ সুরা আন’য়াম-৪৬ ]

আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কেন চিন্তা ভাবনা কর না ? [ সুরা আন’য়াম-৫০ ]

তোমাদের পালনকর্তা নিজের উপর দয়া ও রহমত করার নীতি বাধ্যতামূলক করে নিয়েছেন। তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজ্ঞতা ও মূর্খতা বশতঃ কোন পাপ কাজ করলে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়। [ সুরা আন’য়াম-৫৪ ]

হুকুমের মালিক আল্লাহ ছাড়া আর কেহ নয়।[ সুরা আন’য়াম-৫৭ ]

তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। তার অবগতি ব্যতীত বৃক্ষ হতে একটি পাতাও ঝরে পড়ে না। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না। সমস্ত কিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। [ সুরা আন’য়াম-৫৯ ]

ঐ দিন আল্লাহই একমাত্র ফয়সালা করবেন এবং তিনিই দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। [ সুরা আন’য়াম-৬২ ]

তাদেরকে বর্জন করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে; এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কোন ব্যক্তি স্বীয় কর্মদোষে ধ্বংস হয়ে না যায়। [ সুরা আন’য়াম-৭০ ]

যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে, সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি অদৃশ্য বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে সর্বজ্ঞাত। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। [ সুরা আন’য়াম-৭৩ ]

যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। [ সুরা আন’য়াম-৮২ ]

এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী; এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এই কিতাবকেও বিশ্বাস করে এবং তারা নিয়মিতভাবে নিজের নামাযও আদায় করে। [ সুরা আন’য়াম-৯২ ]

নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী। তিনি জীবন্তকে প্রানহীন থেকে বের করেন ও প্রানহীনকে জীবন্ত থেকে বের করেন। তিনি তো আল্লাহ, তাহলে তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? [ সুরা আন’য়াম-৯৫ ]

তিনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনিই প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী। [ সুরা আন’য়াম-১০২ ]

এরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের পূজা অর্চণা করে তোমরা তাদেরকে গালমন্দ করো না । তাহলে তারাও ধৃষ্টতা ও অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে গালমন্দ করা শুরু করবে। [ সুরা আন’য়াম-১০৮ ]

এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। [ সুরা আন’য়াম-১১২ ]

আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মত চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে। [ সুরা আন’য়াম-১১৬ ]

যে জন্তুর উপর আল্লাহর নাম নিয়ে জবেহ করা হয়, তা থেকে ভক্ষণ কর। যদি তোমরা আল্লাহর বিধানের উপর ঈমান রাখ। [ সুরা আন’য়াম-১১৮ ]

যেসব জন্তু আল্লাহর নাম নিয়ে জবেহ করা হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এগুলো ভক্ষণ করা গোনাহ। নিশ্চয় শয়তান তাদের বন্ধুদের মনে নানাপ্রকার সন্দেহ ও প্রশ্ন সৃষ্টি করে-যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করতে পারে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে যাবে। [ সুরা আন’য়াম-১২১ ]

আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না। পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো। স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না। কেননা আমিই তোমাদেরকে ও তাদেরকে জীবিকা দেই। আর অশ্লীল কাজ ও কথার ধারে কাছেও যেয়ো না, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। আর আল্লাহ যার হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারন ছাড়া তাকে হত্যা করো না। [ সুরা আন’য়াম-১৫১ ]

এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর, যদি সে আত্নীয়ও হয়। আর আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ কর। [ সুরা আন’য়াম-১৫২ ]

যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। [ সুরা আন’য়াম-১৬০ ]

আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন শুধুমাত্র বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। [ সুরা আন’য়াম-১৬২ ]

সেদিন (প্রত্যেকের আমল) ন্যায় ও যথার্থভাবে ওজন করা হবে। অতঃপর যাদের (নেক আমলের) পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম ও কৃতকার্য হবে। [ সুরা আরাফ-৮ ]

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X