শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাবিল ও কাবিলের ইতিহাস 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
প্রতীকী ছবি-এআই,এনপিবি
expand
প্রতীকী ছবি-এআই,এনপিবি

হাবিল ও কাবিলের ঘটনা শুধু একটি গল্প নয়; এটি মানুষের ভেতরের ভালো-মন্দ, হিংসা, ঈমান ও দায়িত্ববোধের গভীর শিক্ষা। ঘটনাটি এসেছে আল-কুরআন-এর সূরা মায়েদা ২৭–৩১ আয়াতে।

মানবজাতির সূচনালগ্নে নবী হযরত আদম (আ.)-এর সন্তানদের মাধ্যমেই পৃথিবীতে মানুষের বিস্তার শুরু হয়। তাঁর দুই ছেলের নাম ছিল হাবিল এবং কাবিল। তাদের জীবিকা ছিল ভিন্ন, হাবিল পশুপালন করতেন আর কাবিল কৃষিকাজ করতেন।

ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, হাবিল ও কাবিল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে কুরবানি পেশ করেন। হাবিল আন্তরিকতার সাথে উত্তম পশু উৎসর্গ করেন, অন্যদিকে কাবিল নিম্নমানের ফসল প্রদান করেন। হাবিলের কুরবানি গ্রহণ করা হলেও কাবিলেরটি প্রত্যাখ্যাত হয়। এখান থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

কাবিল অপমান ও ঈর্ষায় জ্বলে ওঠে। ভাইকে হুমকি দেয়, “আমি তোমাকে হত্যা করব।”

হাবিল শান্তভাবে জানিয়ে দেন, আল্লাহ শুধু পরহেজগারদের আমল গ্রহণ করেন এবং তিনি অন্যায়ভাবে প্রতিশোধ নেবেন না।

পরবর্তীতে ঈর্ষা ও ক্রোধের বশে কাবিল নিজের ভাইকে হত্যা করে। ধর্মীয় ইতিহাসে এটিই পৃথিবীর প্রথম খুন হিসেবে বিবেচিত।

হত্যার পর কাবিল বিপদে পড়ে যায়। মৃতদেহ কী করবে সে জানত না। তখন আল্লাহ একটি কাক পাঠান, যা মাটি খুঁড়ে মৃত কাককে দাফন করে দেখায়।

এ দৃশ্য দেখে কাবিল বলে ওঠে, “হায়! আমি কি এই কাকের মতোও হতে পারলাম না?” তার মধ্যে অনুতাপ জাগে, কিন্তু অপরাধ তখন হয়ে গেছে।

এই ঘটনার পর একটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করা হয়: নিরপরাধ একজন মানুষকে হত্যা করা পুরো মানবজাতিকে হত্যার সমান, আর একজনকে রক্ষা করা পুরো মানবজাতিকে রক্ষার সমান।

হত্যা সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে কোন মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। [ সুরা নিসা-৯৩ ]

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X