বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজা অবস্থায় ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা বুঝবেন কীভাবে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১১ পিএম আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
ডিহাইড্রেশন
expand
ডিহাইড্রেশন

রমজান মাসে রোজা রাখার সময় দীর্ঘ সময় পানি ও তরল গ্রহণ না করার কারণে অনেকেই ডিহাইড্রেশন (Dehydration) বা পানিশূন্যতার সমস্যায় ভোগেন।

ইসলামী শরিয়ত, হাদিস ও আধুনিক চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে রোজা অবস্থায় ডিহাইড্রেশন বুঝতে হলে কিছু লক্ষণ ও সতর্কতা জানা জরুরি।

১. ডিহাইড্রেশন কী?

ডিহাইড্রেশন হলো শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের অভাব। রোজা রাখার সময় পানির অভাব, ঘাম ও প্রস্রাবের মাধ্যমে পানি কমে গেলে এটি ঘটে।

আরও পড়ুনঃ কিডনি রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন কি? ডাক্তাররা কী বলেন?

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত হয়ে রোজা রাখে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে বিশ্রাম তৈরি করেছেন।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

যেখানে রোজার সওয়াব আছে, সেখানে স্বাস্থ্য ক্ষতি না হওয়ার জন্য সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ।

২. ডিহাইড্রেশনের সাধারণ লক্ষণ

. অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভব রোজার মাঝে যদি খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভব হয়, তা পানি শূন্যতার লক্ষণ।

. মুখ ও গলা শুষ্ক হয়ে যাওয়া লালচে বা শুকনো মুখ, গলা শুষ্ক, জিহ্বা শুকনো হয়ে যাওয়া।

. প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া ও রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব এবং গাঢ় হলুদ রঙ।

. মাথা ঘোরা ও চक्कर আসা বিশেষ করে ওঠার সময় মাথা ঘোরা বা হালকা অসুস্থ বোধ।

. মাথাব্যথা বা ক্লান্তি দীর্ঘ সময় পানিশূন্য থাকার কারণে মাথাব্যথা ও দুর্বলতা অনুভূত হয়।

আরও পড়ুনঃ রমজানে কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) দূর করার কার্যকরী ডায়েট।

. চোখে শুকনো ভাব বা অন্ধকার দৃষ্টি চোখের পানি কমে গেলে চোখে শুষ্কতা বা দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে।

. মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া শরীরের পানিশূন্যতা মানসিক কার্যক্ষমতাও কমায়।

৩. ডিহাইড্রেশনের ঘরোয়া প্রতিকার

সেহরিতে করণীয়:

পর্যাপ্ত পানি পান করুন (২–৩ গ্লাস)। হাইড্রেটিং খাবার যেমন খেজুর, ফল, দই ও সবজি অন্তর্ভুক্ত করুন।

ইফতারে করণীয়:

ইফতারের সঙ্গে ধীরে ধীরে পানি পান করুন। সোডা, চা বা কফি অতিরিক্ত এড়িয়ে চলুন।

দিনে সতর্কতা:

সরাসরি সূর্যের নিচে কাজ বা শারীরিক শ্রম কমানো। হালকা ব্যায়াম ও বিশ্রাম।

৪. কখন রোজা ভাঙা উচিত

যদি ডিহাইড্রেশন গুরুতর হয়—যেমন:

মাথা ঘোরা বমি বা দুর্বলতা খুব বেশি তৃষ্ণা এবং হালকা চেতনা কমে যাওয়া

এই ক্ষেত্রে শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলে রোজা ভাঙা নিরাপদ ও বৈধ। পরে অসুস্থতা কাটলে কাজা রোজা দেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ উচ্চ রক্তচাপ (High BP) থাকলে রোজা রাখার নিয়ম ও সতর্কতা।

৫. সতর্কতার বিষয়

রোজার সময় পানি কম হওয়া স্বাভাবিক, তবে গুরুতর লক্ষণ এলে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন।

ডাক্তার বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম, বিশেষ করে বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য।

সেহরি ও ইফতারে হালকা, হাইড্রেটিং ও ফাইবারযুক্ত খাবার রাখা উচিত।

৬. সংক্ষিপ্ত উপসংহার

ডিহাইড্রেশন রোজার সাধারণ কিন্তু গুরুতর সমস্যা হতে পারে। তৃষ্ণা, শুকনো মুখ, কম প্রস্রাব, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং চোখে শুষ্কতা ডিহাইড্রেশনের মূল লক্ষণ।

সেহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি, হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, হালকা ব্যায়াম এবং বিশ্রাম ডিহাইড্রেশন কমাতে সাহায্য করে।

গুরুতর অবস্থায় রোজা ভাঙা বৈধ এবং পরে কাজা রোজা পূরণ করা যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X