সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজা রেখে চুল কালার বা ডাই করা যাবে কি?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রোজা অবস্থায় চুলে কালার বা ডাই করা যাবে কি না—এটি অনেকের সাধারণ প্রশ্ন।

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে রোজা ভাঙার মূল কারণ কী এবং বাহ্যিক সাজসজ্জার বিধান কী।

রোজা ভাঙার মূল নীতি

রোজা ভাঙে তখনই, যখন ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় (খাওয়া, পান করা, ওষুধ গ্রহণ করা ইত্যাদি) অথবা যৌন সম্পর্ক করা হয়।

আরও পড়ুনঃ শাওয়ালের রোজা কি একটানা রাখতে হয় নাকি বিরতি দিয়ে রাখা যায়?

বাহ্যিকভাবে শরীরে কিছু লাগানো, যেমন তেল, মেহেদি, সুগন্ধি, চুলের রং—এসব রোজা ভঙ্গের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এই নীতির ভিত্তিতে ফিকহবিদরা বলেছেন, চুলে কালার বা ডাই করা রোজা ভাঙার কারণ নয়, কারণ এতে কিছু পেট বা দেহের ভেতরে প্রবেশ করে না।

হাদিসের প্রমাণ

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থায় মাথায় তেল ব্যবহার করতেন।” (সুনানে আবু দাউদ)

যদি রোজা অবস্থায় মাথায় তেল লাগানো জায়েজ হয়, তাহলে চুলে রং বা ডাই লাগানোও জায়েজ হবে, কারণ দুটোই বাহ্যিক ব্যবহার এবং শরীরের ভেতরে কিছু প্রবেশ করায় না।

আরেক হাদিসে এসেছে,

“নবী (সা.) চুলে মেহেদি ও কাতাম ব্যবহার করতেন।” (সুনানে আবু দাউদ, মুসনাদ আহমদ)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, চুলে রং করা নিজেই বৈধ কাজ এবং এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

যদি চুলে কালার বা ডাই করার সময় কোনো রাসায়নিক পদার্থ ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে বা গলায় চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ঈদের জামাত না পেলে একাকি নামাজ পড়া যাবে কি?

তাই রোজা অবস্থায় ডাই করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, যেন কিছু মুখের ভেতরে প্রবেশ না করে।

মাকরুহ হওয়ার দিক

যদিও রোজা রেখে চুলে কালার বা ডাই করা জায়েজ, তবে অহেতুক সাজগোজ ও অতিরিক্ত প্রসাধনে সময় নষ্ট করা রোজার আদবের পরিপন্থী।

কারণ রমজান মাস মূলত ইবাদত, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করে না, আল্লাহ তার পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন রাখেন না।” (সহিহ বুখারি)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোজার উদ্দেশ্য শুধু না খেয়ে থাকা নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও সময়কে গুনাহ থেকে রক্ষা করা।

চুলে কালার করার ক্ষেত্রে শরয়ি সীমা

চুলে কালার বা ডাই করতে গিয়ে হারাম কোনো রং ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— কালো রং দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে বয়স লুকানো

অমুসলিমদের বিশেষ স্টাইল অনুকরণ

নারীদের জন্য পুরুষদের মতো স্টাইল বা পুরুষদের জন্য নারীদের মতো স্টাইল করা

এ বিষয়ে হাদিস আছে:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।” (সুনানে আবু দাউদ)

এ কারণে চুলে রং করা জায়েজ হলেও ইসলামী শালীনতা বজায় রাখা ফরজ।

স্বাস্থ্যগত দিক

কিছু ডাই বা কালারে তীব্র গন্ধ ও কেমিক্যাল থাকে, যা মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে।

এতে রোজা অবস্থায় কষ্ট বাড়তে পারে। তাই স্বাস্থ্যগত কারণে রোজার সময় না করে ইফতারের পর করাই উত্তম।

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় হিজামা বা কাপিং থেরাপি নেওয়া যাবে কি?

সংক্ষিপ্ত ফিকহি সিদ্ধান্ত -

রোজা রেখে চুলে কালার বা ডাই করা জায়েজ। এতে রোজা ভাঙে না, কারণ কিছু শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে না।

তবে শর্ত হলো—

মুখ বা গলায় কোনো রাসায়নিক না যাওয়া হারাম স্টাইল বা প্রতারণামূলক কালো রং ব্যবহার না করা অপ্রয়োজনীয় সাজগোজে সময় নষ্ট না করা

রোজা অবস্থায় চুলে কালার বা ডাই করা শরিয়তসম্মতভাবে জায়েজ এবং এতে রোজা নষ্ট হয় না। তবে রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন।

তাই বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা অনুযায়ী রোজা এমনভাবে পালন করতে হবে, যাতে চোখ, কান ও অন্তর সবই গুনাহ থেকে নিরাপদ থাকে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
FIFA World Cup
LIVE
Spain VS Cape Verde
Scheduled
Spain
- - -
Cape Verde
World Cup