সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওজন কমাতে রোজার মাসে ডায়েট প্ল্যান কেমন হওয়া উচিত?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাস শুধু ইবাদতের সময় নয়, বরং এটি শরীরকে সুস্থ রাখার এবং অতিরিক্ত ওজন কমানোর একটি সুবর্ণ সুযোগও বটে। অনেকেই মনে করেন রোজা রাখলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকের ওজন কমার বদলে আরও বেড়ে যায়।

ইফতারে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মিষ্টি ও রাতের বেলায় ভারী খাবার গ্রহণ করলে রোজার উপকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই রোজার মাসে ওজন কমাতে চাইলে একটি পরিকল্পিত ও বাস্তবসম্মত ডায়েট প্ল্যান অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

ইসলামে পরিমিত আহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু সীমালঙ্ঘন করো না।” (সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩১)। এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, রোজার মাসে খাদ্য গ্রহণের উদ্দেশ্য হবে শরীরকে সুস্থ রাখা, অতিভোজন নয়। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এই নীতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেহরি হলো ওজন কমানোর ডায়েট প্ল্যানের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আরও পড়ুনঃ সেহরিতে কী খেলে সারাদিন তৃষ্ণা কম পাবে?

অনেকেই ওজন কমানোর চিন্তায় সেহরি বাদ দেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। সেহরি না খেলে দিনের বেলায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ইফতারে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। সেহরিতে এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন লাল চালের ভাত বা আটার রুটি পরিমিত পরিমাণে রাখা ভালো। এর সঙ্গে ডিম, ডাল বা অল্প পরিমাণ মাছের মতো প্রোটিন যুক্ত করলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ পানিশূন্যতা অনেক সময় ক্ষুধার অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয়। তবে চা-কফি এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ ক্যাফেইন শরীর থেকে পানি বের করে দেয়। সেহরিতে ফল যেমন আপেল বা পেঁপে যোগ করলে আঁশ পাওয়া যায়, যা হজমে সহায়তা করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুনঃ ইফতারে ভাজাপোড়া খেলে শরীরের কী ক্ষতি হয়? স্বাস্থ্যকর বিকল্প কী?

ইফতারের সময়ই মূলত ওজন বাড়া বা কমার বিষয়টি নির্ধারিত হয়। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খেলে শরীর প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্যালোরি পেয়ে যায়। তাই ইফতার শুরু করা উচিত পানি ও খেজুর দিয়ে, যা সুন্নত এবং শরীরকে ধীরে ধীরে খাবারের জন্য প্রস্তুত করে। এরপর ফলমূল বা হালকা খাবার গ্রহণ করা উত্তম।

ওজন কমাতে চাইলে ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব সীমিত রাখা উচিত। এসব খাবারে অতিরিক্ত তেল ও ক্যালোরি থাকে, যা সহজেই চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। এর পরিবর্তে হালকা স্যুপ, ডাল বা সবজি দিয়ে তৈরি খাবার বেছে নেওয়া ভালো। এতে পেট ভরে, কিন্তু অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হয় না।

রাতের খাবার বা ইফতারের পরের খাবারও ওজন কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই ইফতারের পর এবং তার কিছুক্ষণ পর আবার ভারী খাবার খান, যা ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ। রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা ও পরিমিত। ভাত বা রুটির পরিমাণ কম রেখে সবজি ও প্রোটিনের পরিমাণ একটু বাড়ানো ভালো। খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে না পড়ে হালকা হাঁটা করলে হজম ভালো হয় এবং চর্বি জমা কমে।

আরও পড়ুনঃ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে রোজা রাখার ডায়েট চার্ট।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা যায়, রোজার সময় হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা ওজন কমাতে সহায়ক। ইফতারের এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ২০–৩০ মিনিট হাঁটা শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ায় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম বা দুর্বল অবস্থায় কঠিন শরীরচর্চা করা উচিত নয়।

ইসলামে শরীরকে আমানত হিসেবে দেখা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমার শরীরেরও তোমার ওপর হক রয়েছে।” (সহিহ বুখারি)। তাই রোজার মাসে ওজন কমানোর চেষ্টা যেন শরীরের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, রোজার মাসে ওজন কমাতে হলে না খেয়ে থাকা নয়, বরং সচেতন ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসই মূল চাবিকাঠি। সঠিক সেহরি, স্বাস্থ্যকর ইফতার, হালকা রাতের খাবার এবং সামান্য শরীরচর্চার মাধ্যমে রমজান মাসকে ওজন কমানোর একটি কার্যকর ও নিরাপদ সময়ে রূপান্তর করা সম্ভব। একই সঙ্গে এতে শরীর সুস্থ থাকবে এবং ইবাদতও হবে আরও মনোযোগপূর্ণ ও সহজ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X