সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেহরিতে কী খেলে সারাদিন তৃষ্ণা কম পাবে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাসে রোজা পালনের সময় তৃষ্ণা একটি সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া, দীর্ঘ রোজা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কারণে অনেক রোজাদার সারাদিন তীব্র তৃষ্ণায় ভোগেন। তাই সেহরিতে কী খাওয়া উচিত, যাতে সারাদিন তুলনামূলক কম তৃষ্ণা অনুভূত হয়—এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সেহরি খাওয়া সুন্নত এবং শারীরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি রোজা রাখার জন্য একটি বড় সহায়ক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সেহরি খাও, কেননা সেহরিতে বরকত রয়েছে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯২৩)। এই বরকতের একটি দিক হলো শরীরকে দীর্ঘ সময় পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করা।

আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় রোজা রাখার নিয়ম ও ডাক্তারি সতর্কতা।

সারাদিন তৃষ্ণা কম পাওয়ার জন্য সেহরিতে খাবারের ধরন ও পানির পরিমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করা অপরিহার্য। তবে শুধু বেশি পানি খেলেই হবে না, কীভাবে পানি গ্রহণ করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, অল্প অল্প করে ধীরে ধীরে পানি পান করলে শরীর তা ভালোভাবে ধরে রাখতে পারে।

একসঙ্গে অনেক পানি খেলে তা দ্রুত প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়, ফলে দিনের বেলায় তৃষ্ণা আরও বেড়ে যেতে পারে।সেহরিতে এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরে ধীরে ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। জটিল কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন ভাত, আটার রুটি বা ওটস শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি পানি ধরে রাখতে সহায়তা করে। এগুলো দ্রুত হজম হয় না, ফলে শরীর দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকে এবং তৃষ্ণা তুলনামূলক কম লাগে। ফলমূল ও সবজিও সেহরিতে অত্যন্ত উপকারী।

শসা, তরমুজ, কমলা, আপেল, পেঁপে ইত্যাদি ফলে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। এসব ফল শুধু পানি নয়, প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজও সরবরাহ করে, যা শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শসা ও তরমুজ শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং তৃষ্ণা কমাতে কার্যকর।

আরও পড়ুনঃ দাঁত তোলা বা দাঁতের ফিলিং করালে কি রোজা ভেঙে যায়?

প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন ডাল, ডিম, দই বা দুধও সেহরিতে রাখা ভালো। প্রোটিন ধীরে হজম হয় এবং পেট দীর্ঘ সময় ভরা রাখে। এতে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া স্থিতিশীল থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় পানিশূন্যতা কম হয়। দই বিশেষভাবে উপকারী, কারণ এতে থাকা প্রোবায়োটিক ও পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে কিছু খাবার আছে, যা সেহরিতে খেলে সারাদিন তৃষ্ণা বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, অতিমশলাদার খাবার বা প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয়। এসব খাবার খেলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে তৃষ্ণা বৃদ্ধি পায়।

তাই সেহরিতে এসব খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা বা কফি সেহরিতে পান করা অনেকের অভ্যাস। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়, যার ফলে শরীর দ্রুত পানি হারায়। এর ফল হিসেবে দিনের বেলায় তৃষ্ণা আরও তীব্র হয়। তাই সেহরিতে চা-কফি কমানো বা এড়িয়ে চলা শ্রেয়।

আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে সাপোজিটরি ব্যবহার করা যাবে কি?

ইসলামের দৃষ্টিতে শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়া একটি দায়িত্ব। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর তোমরা নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।” (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৫)। অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও পানিশূন্যতা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সঠিক খাবার ও পানীয় নির্বাচন করা শুধু শারীরিক প্রয়োজন নয়, বরং ইবাদতের সহায়ক একটি মাধ্যম।

সবশেষে বলা যায়, সেহরিতে সারাদিন তৃষ্ণা কম পাওয়ার জন্য সুষম ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস জরুরি। পর্যাপ্ত পানি, জটিল কার্বোহাইড্রেট, পানি সমৃদ্ধ ফলমূল ও পরিমিত প্রোটিন গ্রহণ করলে শরীর দীর্ঘ সময় হাইড্রেট থাকে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ, ভাজাপোড়া ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চললে রোজার সময় তৃষ্ণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সুতরাং কুরআন, সহিহ হাদিস এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে বলা যায়—সেহরি শুধু একটি খাবার নয়, বরং রোজাকে সহজ ও সহনীয় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। সঠিক সেহরি গ্রহণ করলে আল্লাহর ইবাদত আরও মনোযোগ ও স্বস্তির সঙ্গে আদায় করা সম্ভব হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X