সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে রোজা রাখার ডায়েট চার্ট।

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাসে রোজা রাখা ইবাদতের পাশাপাশি শরীরের জন্য একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। যাদের গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি বা আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য রোজা রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকের বুকজ্বালা, পেটব্যথা, বমি ভাব বা অতিরিক্ত এসিডের সমস্যা বেড়ে যায়। তবে সঠিক ডায়েট চার্ট অনুসরণ করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে রোজা রাখা সম্ভব।

ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সহজীকরণ রয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর যে অসুস্থ, সে পরে অন্য দিনে সেই সংখ্যা পূরণ করবে।” (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যদি কেউ রোজা রাখতে সক্ষম হন, তাহলে সঠিক খাদ্য পরিকল্পনা করা অত্যন্ত জরুরি। গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পাকস্থলীতে এসিডের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং হজমতন্ত্রকে অযথা উত্তেজিত না করারও

আরও পড়ুনঃ ইফতারে ভাজাপোড়া খেলে শরীরের কী ক্ষতি হয়? স্বাস্থ্যকর বিকল্প কী?

সেহরি হলো গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য রোজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেহরিতে এমন খাবার খেতে হবে, যা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পাকস্থলীকে সুরক্ষা দেয়। ভাত বা আটার রুটি পরিমিত পরিমাণে রাখা ভালো, কারণ এগুলো জটিল কার্বোহাইড্রেট এবং পাকস্থলীতে এসিডের ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমায়। সেহরিতে ডাল, সেদ্ধ সবজি এবং অল্প পরিমাণে ডিম বা মাছ রাখা যেতে পারে, যা প্রোটিন সরবরাহ করে কিন্তু অতিরিক্ত তেল বা মশলা না থাকায় গ্যাস্ট্রিক বাড়ায় না।

সেহরিতে দই গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। দই পাকস্থলীর এসিড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হজমতন্ত্রকে শান্ত রাখে। পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি, তবে একসঙ্গে অনেক পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে পানি পান করা ভালো। সেহরিতে অতিরিক্ত ঝাল, ভাজাপোড়া, লবণাক্ত খাবার এবং চা-কফি এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এসব খাবার পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুনঃ সেহরিতে কী খেলে সারাদিন তৃষ্ণা কম পাবে?

ইফতারের সময় গ্যাস্ট্রিক রোগীদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সারাদিন খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ ভারী খাবার পাকস্থলীতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। তাই ইফতার শুরু করা উচিত কুসুম গরম পানি ও খেজুর দিয়ে। খেজুর প্রাকৃতিক চিনি ও খনিজ সরবরাহ করে এবং পাকস্থলীতে হঠাৎ এসিডের ঝাঁজ কমাতে সাহায্য করে। এরপর হালকা ফল যেমন কলা, পেঁপে বা আপেল খাওয়া যেতে পারে, যা গ্যাস্ট্রিকের জন্য নিরাপদ এবং হজমে সহায়ক।

ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। অতিরিক্ত তেল ও মশলা পাকস্থলীর এসিড বাড়িয়ে বুকজ্বালা ও ব্যথা সৃষ্টি করে। এর পরিবর্তে হালকা স্যুপ, ডাল বা সেদ্ধ সবজি দিয়ে তৈরি খাবার গ্রহণ করা উত্তম। ইফতারের পর একসঙ্গে অনেক খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে খাওয়া গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

রাতের খাবার বা ইফতারের পরের খাবারও গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাতের খাবার খুব দেরিতে না খাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল-মশলা পরিহার করা উচিত। ভাত, সবজি ও হালকা প্রোটিনের সমন্বয়ে তৈরি খাবার পাকস্থলীর জন্য নিরাপদ। খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়া উচিত নয়, কারণ এতে এসিড ওপরে উঠে বুকজ্বালার সমস্যা বাড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, গ্যাস্ট্রিক রোগীদের রোজার সময় নিয়মিত ওষুধ গ্রহণের বিষয়েও সতর্কতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে সাপোজিটরি ব্যবহার করা যাবে কি?

অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক সেহরি ও ইফতারের সময় অনুযায়ী ওষুধের ডোজ ঠিক করে দেন। তাই নিজে নিজে ওষুধ পরিবর্তন না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ইসলাম শরীরের ক্ষতি হয় এমন কোনো ইবাদত চাপিয়ে দেয় না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিজের ওপর ক্ষতি করা যাবে না এবং অন্যের ওপরও ক্ষতি করা যাবে না।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩৪০)। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা যদি এতটাই গুরুতর হয় যে রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে রোজা ভেঙে পরে কাজা আদায় করাই শরিয়তসম্মত।

সবশেষে বলা যায়, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলেও সঠিক ডায়েট চার্ট ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে নিরাপদে রোজা রাখা সম্ভব। সেহরি ও ইফতারে হালকা, কম মশলাযুক্ত এবং সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে পাকস্থলী সুস্থ থাকবে, রোজা রাখা সহজ হবে এবং ইবাদতেও প্রশান্তি পাওয়া যাবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X