

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজের জন্য নির্দিষ্ট আহ্বান রয়েছে, যাকে বলা হয় আজান। এটি মূলত মুসল্লিদের নামাজে অংশগ্রহণের আহ্বান।
কোরআনের সূরা মায়িদাহ (৫৮ আয়াত)-এ উল্লেখ আছে—“তোমরা যখন নামাজের জন্য আহ্বান কর, তখন তারা তাকে উপহাস ও খেলার বিষয় বানায়।”
অতীতে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা প্রার্থনার আহ্বানে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। খ্রিষ্টানরা ব্যবহার করতেন ঘণ্টা, ইহুদিরা শিঙা বাজাতেন। কিন্তু মদিনায় এসে হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর নির্দেশে আজান প্রচলন করেন। ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন ছিলেন বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)।
আজানের পর দোয়া (বাংলা উচ্চারণ)
আল্লাহুম্মা রব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস সালাতিল কায়িমাতি আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাতা ওয়াদ দারজাতার রফিআতা ওয়াবআসহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়াআত্তাহু; ওয়ারজুকনা শাফাআতাহু ইয়াওমাল কিয়ামাতি, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিআদ।
দোয়ার বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ! আপনি এই পূর্ণাঙ্গ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাজের প্রভু। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে দান করুন সুপারিশের অধিকার, উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানিত আসন, যা আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আমাদেরকে তাঁর সুপারিশের অংশীদার করুন কিয়ামতের দিনে। নিশ্চয়ই আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না।
আজানের সূচনা কিভাবে হলো
আবু উমাইর ইবনে আনাস (রা.) তাঁর আনসারি চাচার সূত্রে বর্ণনা করেছেন— একসময় রাসুলুল্লাহ (সা.) চিন্তা করছিলেন, নামাজের সময় হলে মানুষকে একত্র করার সবচেয়ে ভালো উপায় কী হতে পারে।
কেউ পতাকা ওড়ানোর প্রস্তাব দিলেন, কেউ বললেন শিঙাধ্বনি ব্যবহার করা হোক, আবার কেউ ঘণ্টাধ্বনি চালুর পরামর্শ দিলেন। তবে নবী (সা.) কোনোটি-ই গ্রহণ করেননি। কারণ এগুলো ছিল ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের প্রথা।
পরবর্তীতে আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ (রা.) স্বপ্নে আজানের শব্দ শিখে তা নবী (সা.)-কে জানান। একইভাবে ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-ও কিছুদিন আগে একই স্বপ্ন দেখেছিলেন, তবে তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিলেন—“বিলাল, ওঠো! আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ যেভাবে বলেছে, তুমি সেভাবেই আজান দাও।”
এরপর থেকেই বিলাল (রা.) নিয়মিত মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। আনসারদের মতে, যদি সেদিন আবদুল্লাহ অসুস্থ না থাকতেন, তবে তাকেই প্রথম মুয়াজ্জিন করা হতো। (সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৮)
মন্তব্য করুন
