

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৫৪-২৫৫ আয়াতে 'আমনার রাসূলু' থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত) পাঠ করলে শয়তান ও বদ নজর থেকে সুরক্ষা লাভ হয়, রাতে পড়লে তা যথেষ্ট হিসেবে গণ্য হয় এবং এগুলো পড়লে বিপদ-আপদ দূর হয় ও জান্নাতের পথ সুগম হয়। এই আয়াতগুলোতে অত্যন্ত জরুরি কিছু দোয়া রয়েছে, যার কবুলের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
আয়াত
اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ؕ کُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓئِکَتِهٖ وَ کُتُبِهٖ وَ رُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ ۟ وَ قَالُوۡا سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا ٭۫ غُفۡرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیۡکَ الۡمَصِیۡرُ لَا یُکَلِّفُ اللّٰهُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا ؕ لَهَا مَا کَسَبَتۡ وَ عَلَیۡهَا مَا اکۡتَسَبَتۡ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِیۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تَحۡمِلۡ عَلَیۡنَاۤ اِصۡرًا کَمَا حَمَلۡتَهٗ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَ اعۡفُ عَنَّا ٝ وَ اغۡفِرۡ لَنَا ٝ وَ ارۡحَمۡنَا ٝ اَنۡتَ مَوۡلٰىنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ
উচ্চারণ : আমানার রাসুলু বিমা উনজিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহ। লা-নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ।
ওয়া কালু সামি’না ওয়া আত্বা’না গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন্না সিনা আও আখত্ব’না রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরাং কামা হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিং কাবলিনা রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাকাতালানা বিহ।
ওয়া’ফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।
অর্থ : রাসুল তার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের প্রতি ইমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ইমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমুহ ও তাঁর রাসুলগণের ওপর, আমরা তাঁর রাসুলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম।
হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ওপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না।
হে আমাদের রব! আমাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই।
আর আপনি আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন, আর আমাদের ওপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
ফজিলত ও তাৎপর্য
আধ্যাত্মিক সুরক্ষা: রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়লে তা শয়তান, বদ নজর ও কালো জাদু থেকে সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট।
প্রশান্তি ও প্রশান্তি: এই আয়াতগুলো পাঠ করলে হৃদয় উদ্বেগ থেকে দূরে থাকে এবং আত্মাকে নেতিবাচকতা থেকে রক্ষা করে, যা প্রশান্তির গভীর অনুভূতি প্রদান করে।
নিয়মিত পাঠের উপকারিতা: নিয়মিত এই দুটি আয়াত পাঠ করলে বিপদ-আপদ দূরে থাকে এবং জান্নাতের পথ সুগম হয়। গুরুত্বপূর্ণ দোয়ার সমাহার: আয়াতের শেষ অংশে এমন কিছু জরুরি দোয়া রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা কবুল করার ওয়াদা করেছেন।
হাদিসের প্রমাণ
সহীহ আল-বুখারী (৫০০৯) অনুসারে, যে কেউ রাতে সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত তেলাওয়াত করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।
জিবরীল (আ.) নবী (সা.) এর কাছে আসার সময় যে আওয়াজ শুনেছিলেন, তা ছিল আসমানের একটি দরজা খোলার আওয়াজ, যা শুধু সেই দিনই খোলা হয়েছিল, এর আগে কখনও খোলা হয়নি।
কীভাবে পাঠ করবেন
ঘুমানোর আগে সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করুন। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় পাঠ করার আমল করতে পারেন। এই আয়াতগুলোর পাঠ আল্লাহর পক্ষ থেকে সুরক্ষা ও রহমত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
মন্তব্য করুন
