

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সূরা ইখলাস কোরআনের ১১২তম সূরা। এতে আল্লাহ তাআলার সত্তা ও গুণাবলির সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত অথচ সুন্দর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ছোট আয়াতসংখ্যার হলেও এর মর্যাদা অত্যন্ত বড়। হাদিসে এসেছে, এই সূরা পড়া কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়ার সমান সওয়াবের কারণ হয়।
‘ইখলাস’ শব্দের অর্থ হলো একনিষ্ঠতা, খাঁটি আনুগত্য ও শিরকমুক্ত পবিত্র বিশ্বাস। একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল নিরেট ঈমানকেই ইখলাস বলা হয়।
অবতীর্ণ হওয়ার কারণ
মক্কার মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সা.) কে প্রশ্ন করেছিল—“আপনার রবের বংশপরিচয় কী? তিনি কিসের তৈরি? স্বর্ণ-রৌপ্য নাকি অন্য কিছু থেকে?” এর উত্তরে আল্লাহ এই সূরাটি অবতীর্ণ করেন। এতে ঘোষণা করা হয় যে, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি; আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
জান্নাত লাভের মাধ্যম
যে ব্যক্তি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসে, সে জান্নাত লাভ করবে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “তুমি যেহেতু এই সূরাটিকে ভালোবাস, আল্লাহও তোমাকে ভালোবাসবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” (মুসনাদে আহমাদ ৩/১৪১)
কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান সওয়াব
রাসূল (সা.) একবার সাহাবিদের বললেন, “আমি তোমাদের কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ শোনাব।” এরপর তিনি সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করলেন। (সহিহ মুসলিম, তিরমিজি)
বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষা
যে সকাল-বিকেল সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করবে, তার জন্য এগুলো সব ধরনের বিপদ ও অনিষ্ট থেকে রক্ষাকবচ হবে। (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি)
ঘুমানোর আগে আমল
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন: রাসূল (সা.) শোবার আগে তাঁর দুই হাত একত্র করতেন, তারপর তাতে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে ফুঁ দিতেন এবং পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি এটি তিনবার করতেন। (সহিহ বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজি)
سورة الإخلاص (সূরা ইখলাস)
আরবি: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম কুল হুয়াল্লাহু আহাদ আল্লাহুস্ সামাদ লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ
অর্থ:
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বলুন, তিনি আল্লাহ – এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তিনিও জন্মগ্রহণ করেননি। এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
মন্তব্য করুন
