শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাস্তায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুল কাটা, কী বলছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:৫৪ পিএম
রাস্তায় ধরে ধরে চুল কেটে দেয়ার ঘটনা থামছেই না। ছবি: সংগৃহীত
expand
রাস্তায় ধরে ধরে চুল কেটে দেয়ার ঘটনা থামছেই না। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাথার চুল কেটে দেওয়া, পোশাক পরিবর্তনে বাধ্য করা বা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বেড়েই চলছে।

সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। ইসলামি চিন্তাবিদরাও মত দিয়েছেন- জোরপূর্বক এমন কাজের অনুমোদন নেই ধর্মে।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের বৃদ্ধ হালিম উদ্দিন আকন্দকে পাগল ভেবে জোর করে চুল কেটে দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তবে স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি কোনো ভবঘুরে নন, বরং সুফিবাদের নকশেবন্দীয়া তরিকার অনুসারী। ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন হালিম উদ্দিন। তার ভাষায়— “বাজারে গেলে আমাকে ঘিরে ধরে চুল কেটে দেওয়া হয়, অথচ আমি স্বাভাবিক জীবন যাপন করি।”

এমন ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই পথে-ঘাটে পথিক, সন্ন্যাসী কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীনদের জোর করে চুল-দাঁড়ি কেটে দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “কাউকে জোর করে পোশাক পরিবর্তন করানো বা চুল কেটে দেওয়া স্পষ্টতই অপরাধ। এতে ভুক্তভোগীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন, যা মানবাধিকারের পরিপন্থী।”

অন্যদিকে ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, ইসলাম কারও ওপর জোরজবরদস্তি সমর্থন করে না। তবে যারা এসব ঘটনার ভিডিও বা সংবাদ প্রচারে শুধু একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করছে, সেটিকে ইসলামোফোবিয়া হিসেবে দেখছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, “কাউকে রাস্তায় ধরে এনে জোর করে গোসল করানো বা চুল কেটে দেওয়া— এটা রাষ্ট্রীয় আইন যেমন সমর্থন করে না, ইসলামও করে না। তবে দাঁড়ি বা টুপি থাকলেই তাদের টার্গেট করা এবং নেতিবাচকভাবে প্রচার করা ইসলামোফোবিক আচরণ।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন কেউ থাকলে তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসন করাই সঠিক পথ, কিন্তু রাস্তায় জোরজবরদস্তি করে চুল কেটে দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন