

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নাৎসি দখলদারিত্বের অবসান ও ফাসিস্ট শাসনের পতন; ইতালির অন্যতম প্রধান জাতীয় দিবস ‘ফেস্তা দেল্লা লিবেরাৎসিওনে’
২৫শে এপ্রিল। ইতালির ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি দিন। এদিন পালিত হয় ‘Festa della Liberazione’ বা ইতালির মুক্তি দিবস। ১৯৪৫ সালের এই বিশেষ দিনটিতে ইতালি নাৎসি বাহিনীর দখলদারিত্ব এবং বেনিতো মুসোলিনির নিষ্ঠুর ফাসিস্ট শাসন থেকে চূড়ান্ত মুক্তি লাভ করেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষলগ্নে ইতালির সাধারণ মানুষ এবং প্রতিরোধ যোদ্ধারা (Partisans) একজোট হয়ে নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন।
১৯৪৫ সালের এই দিনে ইতালির শিল্প নগরী মিলান এবং তুরিন আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত হয়। প্রতিরোধ যোদ্ধারা এই শহরগুলো দখল করে ফাসিস্ট শক্তির ভিত নাড়িয়ে দেন।
এই আন্দোলনের ফলেই বেনিতো মুসোলিনির ফাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে এবং ইতালির মানুষ দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন থেকে নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায়।
এটি কেবল সামরিক জয় ছিল না, বরং সাধারণ ছাত্র, শ্রমিক এবং কৃষকদের অদম্য সাহসের জয় ছিল।
মুক্তির এই পথ ধরেই আধুনিক ইতালির জন্ম হয়েছিল।
১৯৪৬ সালের গণভোট: স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৪৬ সালে ইতালিতে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইতালির জনগণ রাজতন্ত্রের পরিবর্তে ‘প্রজাতন্ত্র’ বা গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দেন।
সংবিধান প্রণয়ন: এই মুক্তির লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করেই ইতালির বর্তমান গণতান্ত্রিক সংবিধান রচিত হয়েছিল, যা প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে।
আজকের দিনে ইতালির প্রতিটি কোণায় বেজে ওঠে বিখ্যাত গান ‘Bella Ciao’। এই গানটি ছিল প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা। আজও এই সুরটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অন্যায় এবং শোষণের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। আজকের র্যালি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে এই গানটি প্রবাসীদের মনেও দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
ইতালি আজ যে স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের কথা বলে, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল আজকের এই দিনটিতেই। একজন প্রবাসী হিসেবে আপনি যে আইনি সুরক্ষা বা স্বাধীনতা ভোগ করেন, তা এই বিপ্লবেরই ফসল। ইতালীয়দের কাছে এটি কেবল ছুটির দিন নয়, বরং একটি মূল্যবোধের দিন। স্থানীয়দের সাথে এই উৎসবে শামিল হওয়া আপনার সামাজিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।
এদিন দেশটিতে সরকারি ছুটি পালন করা হয়। বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মন্তব্য করুন