শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কিসওয়া’ পবিত্র কাবাঘরের আলোমণ্ডিত অংশ

মোঃ কামাল উদ্দিন, সৌদি আরব প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

বাংলাভাষীরা যাকে গিলাফ বলে। কাবার গিলাফ তৈরি, তা সংরক্ষণ, পরিচর্যা ও পরিবর্তনকে যুগ যুগ ধরে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

কিসওয়া পাঁচ ধাপে বানানো হয়। প্রথমে কাঁচা রেশম উপাদানকে সাবান মিশ্রিত গরম পানিতে ২৪ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখা হয়। এতে রেশমের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে।

এরপর তা কালো অথবা সবুজ রঙে ডোবানো হয়। তা নির্ভর করে কোন পাশের বা কাবার কোন অংশের কিসওয়া তার ওপর। সঙ্গে সঙ্গে সেলাইয়ের জন্য যে সুতা ব্যবহার করা হবে, তা-ও এতে দেওয়া হয়, যাতে কাপড় ও সুতার রং একই হয়। কাপড় ও সুতা প্রস্তুত হওয়ার পর শুরু হয় বুননের কাজ।

প্রথম দিকে পুরোটাই হাতে বোনা হতো। তবে বর্তমানে এই অংশটুকু মেশিনের সাহায্যে বোনা হয়। হাতের কাজটুকু শেষাংশে থাকে। হাতের কাজ শেষ হওয়ার পর কাপড়ের ওপর পবিত্র কোরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি প্রিন্ট করা হয়।

চতুর্থ অংশটিই হচ্ছে সবচেয়ে দীর্ঘ আর কষ্টকর। এই ধাপে এসে সব লেখা সোনা-রুপা মিশ্রিত সুতা দিয়ে লেখা হয়। প্রথমে হলুদ ও সাদা সুতা দিয়ে ‘লেখার অংশের ভিত্তি’ তৈরি করা হয়। এর ওপর সোনা-রুপার তার বা সুতা দিয়ে একে আবৃত করা হয়।

কাপড় থেকে এর উচ্চতা প্রায় দুই সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। আর এ জন্যই এটি মেশিনের সাহায্যে করা সম্ভব নয়। এরপর বিভিন্ন অংশ জোড়া দেওয়া হয়।

প্রতিবছর কিসওয়া তৈরিতে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এতে ৬৭০ কেজি বিশুদ্ধ সিল্ক, ৭২০ কেজি রং ও এসিড ব্যবহার করা হয়। কিসওয়ার ৪৭টি অংশ আলাদাভাবে তৈরি হয়ে থাকে। একেক অংশ ১৪ মিটার লম্বা ও ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া হয়ে থাকে। পুরো কিসওয়ার ক্ষেত্রফল ৬৫০ বর্গমিটার।

প্রতি পাশে সুরা ইখলাস স্বর্ণাক্ষরে খচিত থাকে। বাকি আয়াতের অংশগুলো তার নিচে বোনা হয়। প্রায় ১২০ কেজি সোনা-রুপা ব্যবহার করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X